জেনে নিন ই-কমার্সের শিপিং এবং অর্ডার ফুলফিলমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য!

0
924
ecommerce shipping and order fulfillment

ই-কমার্সে ব্যবসা করতে গেলে নিজের ব্র্যান্ডের সুনাম বজায় রাখার জন্য একজন ব্যবসায়ীকে অনেকদিক সম্বন্ধে সচেতন থাকতে হয়। কারণ ই-কমার্সের ব্যবসায় ক্রেতাকে খুশি রাখা ব্যবসাকে সফল করার এক অন্যতম পথ। তাই ক্রেতাকে খুশি রাখতে একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী নিজের হাতে সুন্দর ভাবে নিজের ব্র্যান্ডকে সাজিয়ে তোলে, ওয়েবসাইটকে আপডেটেড রাখে, কাস্টমারের সব ইমেলে উত্তর সচেতনভাবে সময় মতো প্রদান করে কাস্টমারের চাহিদাপূরণে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু যখনই শিপিং-এর সময় আসে তখনই একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ীকে সম্পূর্ণ একটি অন্যলোকের ওপর ভরসা করতে হয়। কাস্টমারকে খুশি রাখার যেই কাজ একজন ব্যবসায়ী দায়িত্ব নিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখছিল, সেই কাজটাই তখন সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে শিপিং এজেন্টের ওপর। এখানে শিপিং-এর একটু অসুবিধা হলেই এত কষ্ট করে গড়ে তোলা ব্র্যান্ডের সুনাম ধূলিসাত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থেকে যায় প্রবল।

তবে এই শিপিং-এর কাজটাই যদি একটু ভাবনা চিন্তা করে এবং প্ল্যানিং-এর মাধ্যমে করা যায় তাহলে এই বিপর্যয়ের ভয় আর ততটা থাকে না। একটি অনলাইন ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশই হলো শিপিং, কারণ এই শিপিং-এর মাধ্যমেই ক্রেতা অবশেষে তার বহু আকাঙ্খিত প্রোডাক্টটি হাতে পায় এবং সেখান থেকেই ব্যবসায়ী সম্বন্ধে তার ধারনা তৈরী হয়ে থাকে। এই শিপিং প্রসেস একটি ই-কমার্স ব্যবসার সবচেয়ে বড়ো বিনিয়োগের জায়গাও। তাই ই-কমার্সের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে বিক্রেতার শিপিং স্ট্র্যাটেজির ওপরে।

ই-কমার্স জগতের সবচেয়ে জটিল অংশ হলো এই শিপিং এবং অর্ডার ফুলফিলমেন্টের অংশ। কোনো ব্যবসায়ীর যদি এই ব্যাপারে কিছু জ্ঞান না থাকে তাহলে সঠিক ভাবে ইকমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা চালানো মুশকিল। ই-কমার্সে ব্যবসা করতে গেলে তাই আগে এই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজনীয়। তাই আজ সেইরকমই কিছু নতুন ই-কমার্স ব্যবসায়ীকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হলো শিপিং এবং অর্ডার ফুলমেন্টের একেবারে গোড়ার দিকের কিছু বিষয় নিয়ে। যেইগুলো না জানা থাকলে ই-কমার্সে ব্যবসাকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

শিপিং এবং অর্ডার ফুলফিলিং-এর মতো একটি অতীব কঠিন বিষয়কে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য একটু সহজ করার উদ্দেশ্যে এই সংক্রান্ত বিষয়ের কিছু বেসিক আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো। শিপিং স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা, প্যাকেজিং-এর দিকে লক্ষ্য রাখা, রিসোর্স প্রদান করা এবং জনপ্রিয় ক্যারিয়ারের লিঙ্ক সংগ্রহ করা, এছাড়াও ট্র্যাকিং এবং ইনস্যুরেন্স-এর ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া, শিপিং চার্জ লাভের সাথে সমানুপাতিক করা ইত্যাদি সঠিকভাবে ঠিক করার মাধ্যমে নিজের ই-কমার্স ব্যবসার উন্নতি করা সম্ভব হবে।

ই-কমার্সে ব্যবসাকে সফল করতে হলে ব্যবসায়ী শিপিং-এর সম্বন্ধে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা দরকার। আজকে আমরা এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানব।

১। শিপিং স্ট্র্যাটেজি

শিপিং-এর কয়েকটি বেসিক নিয়ম রয়েছে, যা সম্পূর্ণ শিপিং পদ্ধতিটি কী ধরনের হতে পারে তা নির্ণয় করে থাকে। এই নিয়মগুলো পরবর্তীকালে ব্যবসায়ী তার অভিজ্ঞতার সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত করতে পারে। তবে পরিবর্তন করলেও মূল নিয়মগুলো একই থাকে যা শিপিং স্ট্র্যাটেজিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

শিপিং-এর মূল্য:

শিপিং-এর জন্য কেরিয়ার কিছু মূল্য দাবি করে থাকে। এখন ব্যবসায়ী হিসাবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি পুরো শিপিং চার্জটাই ক্রেতার ওপরে চাপাবেন নাকি নিজে অর্দ্ধেক দিয়ে ক্রেতাকে অর্দ্ধেক দেওয়ার অনুরোধ করবেন। আবার অনেক সময় অনেক ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ শিপিং চার্জটাই নিজেই দিয়ে থাকেন ক্রেতার কাছ থেকে নেন না। সেটি করলেও তার সিদ্ধান্ত শুরুতেই নিয়ে নিতে হবে।

প্রোডাক্টের ওজন:

এই প্রসেসটিকে সুন্দরভাবে করার জন্য যেই প্রোডাক্টটি বিক্রি করা হচ্ছে তার ওজন এবং মাপ সঠিকভাবে নির্ধারন করা উচিত। এটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করে নিলে প্রোডাক্টটির কত শিপিং মূল্য হতে পারে তা আগে থেকে ভালোভাবে নির্ধারন করা সম্ভব হয়।

উপযুক্ত প্যাকেজিং করতে হবে:

আপনার প্রোডাক্টের জন্য কোন ধরনের প্যাকেজিং ঠিকঠাক হবে সেটির সিদ্ধান্তও নিতে হবে। কোন ধরনের প্যাকেজিং আপনি আপনার প্রোডাক্টকে দিতে চান সেটি কেরিয়ারকে জানালে তবেই উপযুক্ত শিপিং চার্জ জানা সম্ভব হয়।

প্যাকেজিং সোর্স করা:

আপনি USPS, UPS, কিংবা DHL থেকে বিনামূল্যের প্যাকেজিং-এর সুবিধা নিতে পারেন আবার আপনি ইচ্ছাকরলে ব্র্যান্ডেড প্যাকেজিং-এর ওপরেও খরচ করতে পারেন।

২। শিপিং-এর খরচের হিসাব রাখতে হবে

একটি ই-কমার্স ব্যবসায় প্রোডাক্টের শিপিং-এর পেছনে যে ব্যয় হচ্ছে তার একটি বিস্তারিত হিসাব রাখা প্রয়োজনীয়। কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রোডাক্টের শিপিং রেট নির্ধারিত হয়।

  • প্যাকেজের সাইজ
  • প্যাকেজের ওজন
  • প্যাকেজের উৎস দেশ
  • প্যাকেজের গন্তব্য দেশ

এছাড়াও অতিরিক্ত কিছু শিপিং অপশন রয়েছে যেমন ট্র্যাকিং এবং ইনস্যুরেন্স।

শিপিং-এর পেছনে কতটা ব্যয় হচ্ছে তা বোঝার জন্য ব্যবসায়ীকে ব্যবহার করতে হয় উপযুক্ত শিপিং ক্যালকুলেটর। সেইগুলো হলো-

  • USPS- শিপিং ক্যালকুলেটর
  • কানাডা পোস্ট- শিপিং ক্যালকুলেটর
  • ইউকে রয়্যাল মেল- শিপিং ক্যালকুলেটর
  • অস্ট্রেলিয়া পোস্ট- শিপিং ক্যালকুলেটর
  • UPS- শিপিং ক্যালকুলেটর
  • ফেডএক্স- শিপিং ক্যালকুলেটর

ই-কমার্সে সফলভাবে ব্যবসা করতে হলে সর্বদা লাভের মার্জিনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। কারণ ই-কমার্সে সবথেকে বেশি বিনিয়োগ হয় শিপিং-এই। তাই ভালোভাবে রিসার্চ না করলে শিপিং-এই বড়োসড়ো লোকসানের আশঙ্কা থেকে যায়।

৩।প্যাকেজিং এবং মার্কেটিং

টেকনোলজির কল্যানে ই-কমার্সের ব্যবসা এখন অনেক উন্নত হয়েছে এবং তার ফলেই এটির থেকে ক্রেতার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ক্রেতারা প্রোডাক্টের প্যাকেজিং এবং শিপিং-এর ওপর খুব একটা বেশী গুরুত্ব দিত না। তবে বর্তমানে প্রোডাক্টের প্যাকেজিং এবং শিপিংকেও ই-কমার্সের অভিজ্ঞতার মধ্যে ফেলা হয়। যেই ই-কমার্স ব্যবসায়ী এই ক্ষেত্রে যত ভালো সার্ভিস দিতে পারবে তার লাভ ততই বেশী।

তাই বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা আর শুধুমাত্র প্রোডাক্টের ওপর ভিত্তি করে ক্রেতাকে খুশি করতে পারেন না। তাকে প্যাকেজিং-এর দিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়।

প্যাকেজিং-এর বিভিন্নতা:

প্রোডাক্টকে শিপ করার আগে তাকে ঠিকঠাক রাখার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্যাকেজিং-এর। প্রোডাক্টকে প্যাক করার সময় মাথায় রাখতে হবে প্রোডাক্টটিকে অনেক রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে যাতে আপনার ক্রেতা অবদি সঠিকভাবে প্রোডাক্টটি গিয়ে পৌঁছায় তার জন্য বিশেষ করে প্যাকেজিং-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেক ক্রেতা প্রোডাক্ট ভিত্তিতে বাক্স কিংবা প্লাস্টিকের মজবুত খামে প্যাক করে নিজের প্রোডাক্ট। এছাড়াও নিজের প্রোডাক্টকে ঠিকঠাক রাখার জন্য অন্যান্য প্যাকেজিং মেটেরিয়ালও ব্যবহার করতে পারেন ইকমার্স ব্যবসায়ী।

প্যাকেজকে ছোটো এবং হাল্কা রাখুন:

প্যাকেজ করার সময় মাথায় রাখতে হবে শিপিং চার্জ প্রোডাক্টের প্যাকেজ শুদ্ধু সাইজ এবং ওজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারন করা হয়ে থাকে। তাই প্যাকেজকে যতটা ছোটো এবং হালকা করা যায় ততই শিপিং চার্জ কম পড়বে।

৪। ইনস্যুরেন্স এবং ট্র্যাকিং

ই-কমার্স ব্যবসায়ী কোন ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে তার ওপর ভিত্তি করে শিপিং ইনস্যুরেন্স এবং ট্র্যাকিং সুবিধা লাভ করা যায়, যা প্রোডাক্টকে ভালো সিকিওরিটি দিতে সক্ষম হয়। বেশীরভাগ কেরিয়ারেরই ইনস্যুরেন্স এবং ট্র্যাকিং সংক্রান্ত খরচের পরিমান বেশ কমই আছে এবং এটির সব থেকে ভালো দিক হলো প্রোডাক্ট ডেলিভার করার সময় আপনার প্রোডাক্ট ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলে কিংবা হারিয়ে গেলে উক্ত কেরিয়ার কোম্পানি তার ক্ষতিপূরণ দেবে আপনাকে।

যদিও প্যাকেজ হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা খুব একটা ঘটে না তবুও নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য শিপিং ইনস্যুরেন্স এবং ট্র্যাকিং-এর অপশনটি সুবিধাজনক।

৫।প্যাকেজটিকে যথাযথভাবে লেবেল করা জরুরি

প্রোডাক্টের প্রেজেন্টেশন, প্যাকেজিং, তার কেরিয়ার এবং সমস্ত খরচ নির্ধারণ করা হয়ে যাওয়ার পরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো প্যাকেজের লেবেলিং। এই লেবেলিং-এর অংশটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই অংশের ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু পুরো ডেলিভারি প্রসেসটি হয়ে থাকে। এমনকি প্রোডাক্ট ক্রেতার কাছে না পৌঁছালে কোনো কারণে এই লেবেল-এ লেখা উৎসের ঠিকানায় আবার ফিরে চলে আসে। ফলে প্যাকেজটি হারিয়ে যাওয়ার ভয় আর বিশেষ থাকে না।

শিপিং এবং অর্ডার ফুলফিলিং-এর এই বেসিক কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে ই-কমার্সে ব্যবসা করলে ব্যবসা উন্নতির দিকে দ্রুত গতিতে সহজেই এগিয়ে যেতে থাকে। আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

আরও পড়ুনঃ বাড়ির জন্য বাছুন সঠিক আলো, কীভাবে? সন্ধান দিল টুকিটেক!

Leave a Reply