কোডিং ছাড়াই বানিয়ে ফেলুন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ! কীভাবে? জেনে নিন বিস্তারিত

0
1530
no-code-app-development

বহু টেকস্যাভি মানুষের ইচ্ছা থাকে নিজের অ্যাপ প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু শেষমেশ তাদের এই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায় কোডিং-এর কঠিন পদ্ধতির চক্রে পড়ে। কিন্তু কোডিং ছাড়াই এখন অ্যাপ বানানো সম্ভব। জানতে ইচ্ছা হচ্ছে কীভাবে? আজকের পোস্ট থেকে তবে জেনে নিন বিস্তারিত।

সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি কোনায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রচুর টেক-পাগল মানুষ। টেকনোলজি সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান থাকলেও পুঁথিগত বিদ্যা কম থাকায় তাঁরা অনেক বিষয়েই উৎসাহিত হলেও উদ্যোগী হয়ে সেই কাজ করতে পারেন না। সেইরকমই, বহু টেক-প্রেমী মানুষ অ্যাপ বানানোর বিষয়টি নিয়ে উৎসাহিত হলেও কোডিং-এর জটিল তত্ত্ব না জানার কারণে বানাতে পারেন না তাদের স্বপ্নের অ্যাপ। তবে অ্যাপ বানানোর সেই স্বপ্ন পূরন সহজেই সম্ভব। এখন যদি বলা যায় যে, কোডিং না শিখেই সহজেই অ্যাপ বানানো সম্ভব তাহলে সেটি কি কেউ বিশ্বাস করবেন? কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য ব্যাপারটাই এখন সত্যি হতে চলেছে। এখন যেকোনো টেক-প্রেমী মানুষ চাইলেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন নিজের অ্যাপ। এই বিষয়ে আজ বিস্তারিত তথ্য নিয়ে হাজির টুকিটেক।

টেক জগতে এমন অনেক অপেশাদার ডেভেলপার আছেন যারা তাদের নিজস্ব অ্যাপের ডিজাইন নিয়ে একেবারে প্রস্তুত। শুধুমাত্র কোডিং-এর জটিল তত্ত্ব না জানার কারণে তাঁরা তাদের অ্যাপ নিয়ে অগ্রসর হতে পারছেন না। মোবাইল অ্যাপ-এর জগতে অ্যান্ড্রয়েড হলো সবথেকে গ্রহণযোগ্য একটি মোবাইল প্ল্যাটফর্ম। অ্যান্ড্রয়েড তাঁর ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি ওপেন-সোর্স অপারেটিং পরিবেশ দেয় যেখানে ডেভেলপাররা ঝঞ্ঝাটমুক্তভাবে অসাধারণ ফিচারের সাথে নিজেদের অ্যাপ বানাতে সক্ষম হন। আর এই কারনেই অ্যান্ড্রয়েড এতটা বেশী জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

আগে শুধুমাত্র ডিগ্রীধারী প্রোগ্রামাররাই শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ করতে সক্ষম হতেন। তবে এখন আর ব্যাপারটা সেইরকম নেই। বর্তমানে হাইব্রিড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের উন্নতির সাথে সাথে অপেশাদারি ডেভেলপাররাও কোডিং ছাড়াই অ্যাপ তৈরী করতে সক্ষম হবেন।

আজকের পোস্টে আমরা সেইরকমই কয়েকটি উৎসের সন্ধান দেব যার মাধ্যমে কোডিং ছাড়াই অ্যাপ ডেভেলপ করতে সক্ষম হবেন।

পোস্টে আলোচিত বিষয়গুলো হলোঃ

১। নো-কোড অ্যাপ কী?

২। কোডিং ছাড়া কীভাবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানানো সম্ভব হবে?

৩। সবথেকে ভালো নো-কোড অ্যাপ বিল্ডার কোনগুলো?

  • Makeme Droid
  • AppyPie
  • Buzz Touch
  • MobileRoadie
  • App Machine    
  • App Yourself
  • Andromo
  • App makr
  • Good Barber  
  • AppsGeyser 

৪। কোডিং ছাড়া গেমও কি বানানো সম্ভব?

৫। ভবিষ্যতে কি ‘নো-কোড’ প্রক্রিয়াই হবে অ্যাপ বানানোর মূল ধারা?

১। নো-কোড অ্যাপ কী?

একটি নো-কোড প্ল্যাটফর্ম একটি অসাধারন প্ল্যাটফর্ম যা সাধারণ ডেভেলপার বা টেক ব্যবহারকারীদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে। এই ‘নো-কোডিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সাধারন ‘drag and drop’ ফিচারের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাপ বানাতে সক্ষম হবেন। নো-কোড সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অ্যাপস তৈরি করতে আগে থেকে জটিল কোডিং জ্ঞানের প্রয়োজন নেই।

২। কোডিং ছাড়া কীভাবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানানো সম্ভব হবে?

আমরা সকলেই জানি উন্নত মানের অ্যাপ বানানোর জন্য প্রয়োজন বিস্তারিত কোডিং সম্পর্কিত জ্ঞান। তবে অনেকেরই অ্যাপের ডিজাইন এবং অ্যাপ বানানোর সম্বন্ধে কিছু ধারনা থাকলেও এই জটিল কোডিং-এর বিষয় যথেষ্ট জ্ঞান না থাকার দরুন তাঁরা অ্যাপ বানাতে পারেন না। তবে এখন সেই সমস্যাও নেই। টেকনোলজির জগতে আছে কিছু ‘নো-কোডিং’ অ্যাপ বানানোর উৎস। যেইগুলো ব্যবহারকারীকে অনায়াসেই কোডিং-এর জটিল উপায় ছাড়াই অ্যাপ বানানোর সুযোগ করে দেবে। আজকের পোস্টে সেই রকমই কিছু ‘নো-কোডিং’ রিসোর্স-এর সন্ধান দেওয়া হলো।

৩। সবথেকে ভালো নো-কোড অ্যাপ বিল্ডার কোনগুলো?

টেকনোলজি জগতের সবথেকে ভালো ‘নো-কোডিং’ সিস্টেমগুলো হলো-

Makeme Droid

Makeme Droid একটি সফল অ্যাপ নির্মাতা যার বিশ্বব্যাপী ট্রাফিক বর্তমান। এই টুল নতুন এবং পেশাদার অ্যাপ নির্মাতাদের জন্য অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন মোবাইল অ্যাপস তৈরির জন্য নিখুঁত সার্ভিস প্রদান করে থাকে।

AppyPie

Appy Pie একটি সেরা এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য অনলাইন অ্যাপ তৈরির রিসোর্স, যা ব্যবহারকারীকে খুব বেশি জটিল কোডিং ছাড়াই সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করতে সাহায্য  করে। এই অ্যাপ রিসোর্সগুলো ios এবং Android উভয় অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেই কাজ করে থাকে। এটি বিশ্বের অসংখ্য অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি ‘নো-কোডিং’ রিসোর্স। এটি মোবাইল অ্যাপ ডোমেইনে শুরু করা ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে প্ল্যান প্রদান করে। কিন্তু কোনো ডেভেলপার যদি তার অ্যাপ উন্নত বৈশিষ্ট যুক্ত করতে চান তবে তার জন্য তাকে বেশি ফি দিতে হবে। এছাড়াও ব্যবহারকারী পুশ নোটিফিকেশন, ইন-অ্যাপস, ডাটাবেস সংযুক্ত করতে পারেন, অথবা একজন ব্যবহারকারী শুধুমাত্র ব্যবসায়িক অ্যাপের জন্য প্রয়োজনী গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি সহজেই যুক্ত করতে পারেন।

MobileRoadie

এই ‘নো-কোডিং’ রিসোর্সটি ব্যবহারকারীকে তাদের নিজেদের অ্যাপে বিভিন্ন ফিচার কাস্টমাইজ করার সুযোগ দেয় সাথে এই রিসোর্সে আছে বহুমুখী ডিজাইনের বিকল্প, চিত্তাকর্ষক টেমপ্লেট অফার। এই অনলাইন সার্ভিস টুলটি একটি উন্নতমানের কোড দ্বারা গঠিত। যেখানে পরবর্তীকালে অ্যাপ উন্নয়নের জন্য চমৎকার প্রিমিয়াম বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত ফিচার-এর সুবিধা প্রদান করবে।

Andromo

Andromo ব্যবহারকারীকে চমৎকার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস তৈরি করতে সাহায্য করে। এই রিসোর্স ব্যবহারকারীকে বিনামূল্যে প্রথম অ্যাপটি নির্মাণ করতে দেয়, যার জন্য ব্যবহারকারীকে Andromo-এর সাথে সাইন আপ করতে হবে।

এই রিসোর্সটি একটি মাসিক এবং বার্ষিক অর্থের পরিবর্তে ব্যবহারকারীকে একটি প্ল্যান প্রদান করে থাকে। ব্যবহারকারীরা চাইলে অতিরিক্ত সুবিধার জন্য একটি প্রিমিয়াম প্ল্যানও গ্রহন করতে পারেন অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে। এই রিসোর্সটি একটি স্মার্ট এবং ভাল অ্যাপ বিল্ডার হিসেবে পরিচিত। Andromo বাস্তবে জাভা কোড সক্রিয় করে থাকে। কোনো অসুবিধা ছাড়াই, ব্যবহারকারী স্ক্র্যাচ কোডের মাধ্যমেও একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। Andromo রিয়েল টাইম অ্যাপ তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

AppsGeyser 

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে ভাসিলি সালোমাতভ এবং ওলেগ গ্রেবেনুয়েক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বিস্ময়কর অ্যাপ নির্মাতা প্লাটফর্ম হলো AppsGeyser। এই টুল কোনো জটিল কোডিং প্রক্রিয়া ছাড়াই সেরা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নির্মান করতে সাহায্য করে। এটি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় এটি ডেভেলপারদের একটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যাপস তৈরি, প্রকাশ এবং এমনকি অর্থায়ন করতে সহায়তা করে।

৪। কোডিং ছাড়া গেমও কি বানানো সম্ভব?

হ্যাঁ, কোডিং ছাড়াও গেম বানানো সম্ভব। গেম বানানোর জন্যও নো-কোডিং-এর কিছু রিসোর্স বর্তমান। সেই রিসোর্সগুলো ব্যবহার করে ডেভেলপাররা কোডিং ছাড়াই ভালো গেম বানাতে সক্ষম হবেন। এমনিতে একটি গেম বানাতে প্রয়োজন হয় উন্নতমানের কোডিং-এর। তবে উন্নত কোডিং শেখার ক্ষমতা কিংবা শেখার ইচ্ছা অনেকের থাকে না। কিন্তু তাদের গেম বানানোর ইচ্ছা থাকে সম্পূর্ণ। তাই তাদের গেম বানানোর জন্য সবথেকে ভালো উপায় হলো এই ‘নো-কোডিং’ সিস্টেম। তবে এই প্রক্রিয়ায় গেম বানালে অবশ্যই সেই গেমে অতিরিক্ত উন্নত মানের ফিচার যোগ করা যাবে না। কিন্তু সহজ গেম ডেভেলপাররা সহজেই ‘নো-কোডিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে বানাতে সক্ষম হবেন।

৫। ভবিষ্যতে কি ‘নো-কোড’ প্রক্রিয়াই হবে অ্যাপ বানানোর মূল ধারা?

বিশ্বে বর্তমানে টেকনোলজির গতিপ্রকৃতি ক্রম পরিবর্তনশীল। তাই যুগের সাথে এবং ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে যদি অসাধারন ডিজাইনের এবং অসম্ভব দক্ষতার অ্যাপ আনা যায় তাহলে সেটি সহজেই টেকনোলজির জগতে স্থান অর্জন করে নিতে পারবে। আর এখন জানা হয়েই গেল যে, অ্যাপ বানানোর জন্য কোডিং-এর দরকার পড়ে না। শুধু টেকনোলজির ব্যাপারে সাধারন কিছু জ্ঞানই যথেষ্ট।

ওপরের এই অ্যাপ নির্মানের সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে সহজেই ডেভেলপাররা তাদের স্বপ্নের অ্যাপকে বাস্তবের রূপ দিতে সক্ষম হবেন। আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

আরও পড়ুনঃ ১৯টি APP-এর সাহায্যে এখন ইংলিশ শিক্ষা হোক স্মার্ট উপায়ে!

Leave a Reply