Facebook -এর মাধ্যমেও অর্থ উপার্জন সম্ভব! কীভাবে? জেনে নিন উপায়!

0
1193
how to earn money from facebook

বর্তমান যুগে Facebook ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুবই কম আছেন। এই Facebook-ই হয়ে উঠতে পারে সেই ব্যবহারকারীদের জন্য উপার্জনের পথ।

Facebook এখন প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি পরিচিত শব্দ। এটি বর্তমানের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়। সারা বিশ্ব জুড়ে ১.৩৭ বিলিয়ন লোক সক্রিয় ভাবে Facebook ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও প্রত্যেক মাসে ২ বিলিয়ন -এর ওপর ব্যবহারকারী নিজের অ্যাকাউন্ট খুলছে এই অ্যাপে।

Facebook অ্যাপ এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এত লোক এই অ্যাপে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন যে এই অ্যাপ ব্যবসার জন্য হয়ে উঠেছে একেবারে উপযুক্ত। এত লোকের উপস্থিতি সত্যিই ব্যবসাকে সফল করে তুলতে সাহায্য করে।

তবে সঠিক ভাবে উপার্জনের ক্ষেত্রে এই অ্যাপকে ব্যবহার করতে না জানলে এই অ্যাপ থেকে উপার্জন করা কঠিন। এছাড়াও ফেসবুকে অনেক উপার্জনকারীদের মধ্যে নিজেকে অনন্য ভাবে উপস্থাপন করাও বেশ কঠিন বিষয়। Facebook-ও এত লোকের সমাগমের কারণেই Facebook এখন কয়েকটি বাঁছা পোস্টই অন্যের প্রোফাইলের ফিডে তুলে ধরে। তাই আপনি যদি আপনার ফেসবুক পেজে কিংবা প্রোফাইলে যদি ব্যবসার পোস্ট করেও থাকেন সেটি হয়তো আপনার ফলোয়ারের মাত্র ২% লোকের কাছে পৌঁছাবে। তাই লোকের কাছে আপনার ব্যবসা সংক্রান্ত পোস্ট পৌঁছে দিতে গেলে আপনাকে বুঝতে হবে Facebook -এর অ্যালগোরিদম সম্বন্ধে। আপনি যদি সেই অ্যালগোরিদম বুঝে সেই অনুযায়ী পোস্ট করেন তাহলে সহজেই আপনার পোস্ট বেশী মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

তাহলে প্রথমে জেনে নেওয়া যাক Facebook -এর কয়েকটি অ্যালগোরিদম সম্বন্ধে।

  • Facebook-এর অ্যালগোরিদম ব্যবহারকারীর বন্ধুদের সম্প্রতি পোস্ট করার স্টেটাস এবং তাঁরা কাদের ফলো করছেন, কি ধরনের পোস্ট লাইক করছেন এই বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখে।
  • এরপরে Facebook-এর অ্যালগোরিদম যেই ব্যবহারকারী পোস্ট করছেন তার সমস্ত অতীতের পোস্টের থেকে কিছু সিগন্যাল সংগ্রহ করে থাকে। যেই কন্টেন্টটি পোস্ট করা হয়েছে তার কন্টেন্ট-এর বিষয়, সেই কন্টেন্টে লোকজনের প্রতিক্রিয়া, তাতে লোকজনের ট্যাগিং এবং কমেন্ট ইত্যাদিও বিচার করে দেখে ফেসবুক।
  • এইসব সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে ফেসবুক কিছু পূর্বাভাস পেয়ে থাকে যে কজন এই পোস্টটি শেয়ার করতে পারে, কিংবা কজন এই পোস্টটি দেখে আকর্ষিত হবেন এই বিষয়ে।
  • এরপর এই অ্যালগোরিদম একটি স্কোর প্রস্তুত করে প্রত্যেকটি পোস্টের ওপর তাদের পূর্বাভাস কিংবা সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে।

এরপর যখন Facebook কারোর ফিড অ্যাসেম্বল করে তখন Facebook -এর অ্যালগোরিদমের হিসাবে যেই পোস্টের স্কোর বেশী থাকবে সেই পোস্টই আগে রাখবে Facebook।

এইবারে জানা যাক ফেসবুকের মাধ্যমে উপার্জন করার উপায় গুলো সম্বন্ধে।

Facebook হলো বর্তমানের জনপ্রিয় মাধ্যম সঠিক উপায়ে যদি এর মাধ্যমে ব্যবসা করা যায় তাহলে অনায়াসেই সেই ব্যবসাকে সফল করা সম্ভব হয়।

১। Facebook ফ্যানপেজ থেকে ব্যবসার প্রোডাক্ট বিক্রি করা

অনেক সময় একজন ব্যবসায়ীর পেজের পোস্ট Facebook -এর অ্যালগোরিদমের স্কোর বেশী না পেয়ে অনেকের কাছে পৌছতেই পারে না। তাই এইভাবে প্রোডাক্টের ব্যবসা অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তাই নিজের ফেসবুকের পেজ থেকে পোস্ট বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতে সেই পোস্টের যথেষ্ট স্কোর অর্জন করা প্রয়োজন। আর তার জন্য প্রয়োজন পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পেজের পোস্টে ফলোয়ারের নিযুক্ততা। তাই সেই পেজ থেকে এমন পোস্ট করতে হবে যা ফলোয়ারদের ক্ষেত্রে হবে উপকারী এবং সঠিক।

এছাড়াও পেজ থেকে প্রোডাক্টের বিক্রি বাড়ানোর জন্য সেই প্রোডাক্টের সাথে সম্পর্কিত কোনো ইনফ্লুয়েন্সারকে দিয়ে সেই প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন ও পোস্ট করতে পারেন।

পেজের ফলোয়ারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সারাক্ষণ ব্যবসা সংক্রান্ত পোস্ট কিংবা ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনা করলে হবে না। মাঝে সাঝে সধারণ পোস্ট এবং কথোপকথনের মাধ্যমে পেজের ফলোয়ারদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

২। Facebook -এর মার্কেটপ্লেস-এ নিজের ব্যবসার প্রোডাক্ট বিক্রি করা।

এই ব্যবসা বর্তমানে Facebook -এর সবথেকে জনপ্রিয় ব্যবসা। আপনার বাসস্থানের এলাকা অনুযায়ী আপনি ফেসবুকে আপনার আশেপাশের এলাকার অনেক সেলারকে দেখতে পাবেন তাদের নিজেদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি করতে। এমনকি শুধু তাই নয় এই প্রোডাক্ট-এর ধরনের ওপর ভিত্তি করে Facebook -এ সেইগুলোকে ভাগ করা যায়। যেমন বিউটি প্রোডাক্ট, গার্ডেনিং ইত্যাদি।

আপনি যদি চান তবে আপনিও নিজের পছন্দ মতো জিনিস Facebook -এর মার্কেটপ্লেসে আপলোড করে উপার্জন করতে পারেন। এইখানে এমনকি সাধারণ বাজারের মতো দরদাম করার ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুইজনের মন মতো দামে জিনিস বিক্রি করে সহজেই Facebook থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হয়।

ছাড়াও এলাকা ভিত্তিক কিছু কেনা বেচার গ্রুপও রয়েছে ফেসবুকে। একটি নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত ক্রেতা এবং বিক্রেতা এসে জড়ো হন সেই গ্রুপে। গ্রুপে নিজেদের প্রোডাক্টের ছবি আপলোড করেন এবং সেই ছবি দেখে কোনো ক্রেতা যদি কিনতে ইচ্ছুক হন তবে সেটি অনায়াসেই তিনি কিনে নিতে পারেন। এই গ্রুপের একজন বা একাধিক অ্যাডমিন থাকেন যারা এই পুরো বিষয়টি যাতে সুষ্ঠভাবে হয় সেই বিষয়ে নজর রাখেন।

৩। নিজের দক্ষতায় একটি Facebook পেজ অর্থের বিনিময়ে পরিচালনা করা।

Facebook -এ নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করা ছাড়াও কিংবা নিজের পেজের জণপ্রিয়তা বাড়িয়ে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা ছাড়াও অন্যের Facebook পেজ অর্থের বিনিময়ে পরিচালনা করেও অর্থ উপার্জন করা যায়।

বর্তমানে অনেক স্টার্ট আপ উঠে আসছে এবং তাদের ক্রেতাদের সাথে মূল সম্পর্কের স্থান হয় এই ফেসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো। এইসমস্ত সাইটগুলো সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করলেই একমাত্র ব্যবসা বৃদ্ধির সম্ভবনা আছে। এই কারনেই বিভিন্ন কোম্পানি কিংবা স্টার্ট আপ অর্থের বিনিময়ে রাখে Facebook ম্যানেজার। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে দক্ষ হন তবে অনায়াসেই এই কাজ করতে পারবেন আপনি।

আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

আরও পড়ুনঃ তিনটি ছোটো অনুপ্রেরণামূলক এবং উদ্দীপণামূলক ছোটো গল্প,যা জীবনের উন্নতিতে সাহায্য করবে!

Leave a Reply