Apple iPhone 12-এর সাথে থাকছে না বিনামূল্যের চার্জার!জেনে নিন তার কারণ!

0
952
Apple iPhone 12-এর সাথে থাকবে না বিনামূল্যের চার্জার!জেনে নিন তার কারণ!

বিখ্যাত স্মার্টফোন কোম্পানি Apple সম্প্রতি বাজারে এনেছে তাদের নতুন স্মার্টফোন iPhone 12। তবে তার সাথে এই জনপ্রিয় টেক-কোম্পানি নিয়েছে একটি বড়সড় সিদ্ধান্তও। এই প্রথমবার Apple-এর iPhone-এর সাথে থাকবে না চার্জার কিংবা ইয়ারবাড। ব্যবহারকারীরা যদিও Apple-এর এই সিদ্ধান্তে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তবুও Apple এখনো পর্যন্ত তাদের এই সিদ্ধান্তে অনড়। এরপর থেকে iPhone কিনলে ব্যবহারকারীকে তার চার্জার কিংবা অন্যান্য ফোন সংক্রান্ত অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে হবে আলাদাভাবে।

Apple কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য পদার্থের পরিমান কমানোর জন্য অর্থাৎ carbon footprint-এর পরিমান কমানোর জন্যই নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। তবে অসন্তুষ্ট ব্যবহারকারীদের মতে এটি Apple-এর ব্যবসাবৃদ্ধির আরেকটি কৌশলমাত্র। তারা চার্জার এবং বিনামূল্যের অ্যাকসেসরিস বিহীন স্মার্টফোন বিক্রি করছেন যাতে ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে অর্থ ব্যয় করে কিনতে হয় উক্ত জিনিসগুলো।

টেকনোলজির ইতিহাসে এই প্রথমবার Apple-এর মতো একটি বড়োসড়ো টেক-কোম্পানি চার্জার ছাড়াই স্মার্টফোন বিক্রির সিদ্ধান্ত নিল। তবে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, অন্য আরেকটি বিখ্যাত টেক-কোম্পানি Samsung-ও নিতে চলেছে এমনই একটি সিদ্ধান্ত। তবে এই ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত সংবাদ পাওয়া যায় নি।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে Apple তাদের এই সিদ্ধান্তটি যদি ব্যবসাবৃদ্ধি জন্যও নিয়ে থাকে, তাও তাদের এই সিদ্ধান্তের জন্য পরিবেশে তার ভালো প্রভাবই পড়বে। একটি সার্ভেতে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়াতে ১৮ থেকে ২৪ মাস অন্তর একজন একটি করে মোবাইল ফোন কিনে থাকেন। এছাড়াও অস্ট্রিলিয়াতে ২৩ মিলিয়ন ফোন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার সাথে রয়েছে তাদের চার্জারও। এহেন অবস্থায় একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায় প্রত্যেক বছর তবে কতটা পরিমান ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমা হচ্ছে এই পৃথিবীর বুকে।

Apple-এর এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে কতটা জরুরি সেই বিষয়টি আমরা আজ এই আর্টিকেল থেকে জেনে নেবো।

Apple চার্জার অনেকটাই পরিবেশে ই-বর্জ্য তৈরী করছে যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারলেই Apple-এর এই সিদ্ধান্তের কিছুটা অর্থ ব্যবহারকারীদের কাছে বোধগম্য হবে। এখন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১। আমরা যদি শপিং ব্যাগ পুনরায় ব্যবহার করতে পারি তাহলে চার্জার কেন ব্যবহার করতে পারবো না?

এখন পুরো পৃথিবী জুড়েই একবার মাত্র ব্যবহারযোগ্য শপিং ব্যাগ ব্যান করার কথা চলছে। এমন অনেক জায়গায় এই ব্যান ইতিমধ্যেই বলবৎ হয়ে গেছে। প্লাস্টিক দূষন এড়ানোর জন্যই নেওয়া হচ্ছে এমন ধরনের সিদ্ধান্ত। প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে কাপড়, পাট কিংবা অন্যান্য জৈব পদার্থ দ্বারা তৈরী ব্যাগ ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার প্লাস্টিক দূষন অনেকটাই কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

এইরকম ভাবেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা যদি চার্জারের অতিরিক্ত কেনাকাটি কমিয়ে দেয় তাহলে পরিবেশের ই-বর্জ্যের পরিমান অনেকটাই কমে যাবে। যা পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। আমরা যদি শপিং ব্যাগ পুনরায় ব্যবহার করতে পারি তাহলে একই চার্জার নষ্ট না হওয়া অবদি ব্যবহার করতে পারবো না কেন?

২। ই-বর্জ্য কতটা ক্ষতি করে পরিবেশের? এই ক্ষতি কি পূরণযোগ্য?

ই-বর্জ্য হলো বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্জ্য পদার্থ যেইগুলো ব্যবহারকারী ব্যবহার না করার দরুন কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে ফেলে দেন। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, কম্পিউটার, চার্জার, কীবোর্ড, প্রিন্টার, ইয়ারফোন ইত্যাদি অব্যবহৃত এবং নষ্ট হওয়া ডিভাইস ই-বর্জ্যের মধ্যে পড়ে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী আছেন প্রায় ৪.৭৮ বিলিয়ন। আর এই প্রত্যেক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কাছে আছে একাধিক চার্জার। প্রত্যেক বছর শুধুমাত্র মোবাইল ফোনের চার্জারই উৎপন্ন করে ৫১,০০০ টন ই-বর্জ্য।

এহেন পরিস্থিতিতে যদি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত চার্জার না কিনে একই চার্জার নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করেন তাহলে পৃথিবীর ওপর থেকে অনেকটাই ই-বর্জ্যের চাপ কমে যায়। এমনটা হলে বছরে চার্জারের উৎপাদনের পরিমানও কমে যাবে এবং তারফলে প্রাকৃতিক জ্বালানীর খরচও কমবে অনেকটা।

৩। শুধুমাত্র Apple-এর লোগো থাকার জন্য অতিরিক্ত চার্জার কেনা কি খুবই প্রয়োজন?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পরিমান বিস্তর। তাদের সবার জন্যই প্রয়োজন হয় আলাদা আলাদা চার্জারের। এই ব্যাপারটি অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই বিরক্তিকর। তবে সব ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের জন্য যদি একটি চার্জার হতো তাহলে এই অসুবিধা অনেকটাই কমে যেত। এই ধরনের ভাবনাই এখন ভাবা হচ্ছে টেকনোলজির জগতে। এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে পরিবেশের ওপর তার বিশাল সুপ্রভাব পড়তে বাধ্য।

ফোন কোম্পানি বলতে গেলে প্রায় প্রত্যেক মাসেই নিয়ে আসছে তাদের নতুন ফোন। এই নতুন ফোন যেহেতু ফিচারের দিক থেকে আগের ফোনের থেকে আরও উন্নত তাই পুরনো হয়ে গেলেই চার্জ সহজেই কমে যায়। ফলে চার্জারের দরকার পরেই। তবেই তার জন্য বার বার চার্জার কেনার প্রয়োজন নেই যদি একই চার্জার সবরকম ফোনের জন্য উপযুক্ত হয়। তবে অনেক ব্যবহারকারীই চান Apple-এর ব্র্যান্ডিং যুক্ত চার্জার ব্যবহার করতে, কিন্তু চার্জারে ব্র্যান্ডিং কি সেইভাবে জরুরি?

অনেকের মতে Apple-এর এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তাদের ব্যবসাবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হলেও এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং দামী জিনিসের অতিরিক্ত ব্যবহার কমে যাবে, যা পরিবেশের জন্য খুবই ভালো। Apple-এর তরফ থেকে নেওয়া এই অসাধারন সিদ্ধান্ত পরিবেশের ভালোর জন্য হলেও সাধারণ মানুষ যদি আলাদা ভাবে অতিরিক্ত চার্জার কেনা জারি রাখে তাহলে শেষমেশ লাভ কিছুই হবে না। Apple কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে তারা সম্পূর্ণভাবে carbon-neutral কোম্পানিতে পরিবর্তিত হবে।

৪। Wireless Charger কি তাহলে পরিবেশের জন্য বেশী উপকারী?

তবে Apple-এর ব্যবসায়িক দিক দিয়ে লাভটাকে একেবারে উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। Apple তাদের নতুন iPhone 12-এর সাথে নিয়ে এসেছে ওয়্যারলেস চার্জারও। অতএব নতুন ফোনের সাথে চার্জার না দেওয়ার কারণ তাদের ওয়্যারলেস চার্জারের বিক্রি বৃদ্ধি করাও হতে পারে।

এটি অমান্য করার কোনো অবকাশ নেই যে Apple বিশ্বের একটি অন্যতম ধনী কোম্পানি। তাদের ব্যবসার মূল প্রোডাক্টই হলো হার্ডওয়্যার। তাই এই উপায়ে তারা ব্যবসা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলে সেটি অবিশ্বাস করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

তবে ওয়্যারলেস চার্জার মোটেই পরিবেশের জন্য খুব একটা উপকারী নয়। কারণ সাধারণ চার্জারের থেকে ওয়্যারলেস চার্জার ৪৭% বেশী প্রাকৃতিক জ্বালানী খরচ করে থাকে।

৫। সব কোম্পানির ফোনের জন্য উপযুক্ত একটি চার্জার কী তৈরী করা যায় না?

ই-বর্জ্যের এই বিশাল সমস্যার সমাধান একমাত্র হতে পারে trade-in service-এর মাধ্যমে। যেটি কিনা Apple এবং Samsung এই দুটি বিখ্যাত কোম্পানিই করার ক্ষেত্রে রাজি হয়েছে।

trade-in service হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্রেতা তার পুরনো মডেলের ডিভাইসের বদলে তার নতুন কেনা ডিভাইসের ওপর পাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের ছাড়। যা Apple ইতিমধ্যেই করতে শুরু করে দিয়েছে। তবে Apple ছাড়াও আরও অন্যান্য থার্ড পার্টি কোম্পানি Optus, Telstra, MobileMonster, Boomerang এবং Buy Back এরাও এটির সুযোগ দিচ্ছে ক্রেতাদের।

তবে সব থেকে ভালো সমাধান হবে যদি সব ডিভাইসের জন্য একটি সার্বজনীন চার্জার বের করা হয়। তাহলে ই-বর্জ্য বিশাল পরিমানে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

আরও পড়ুনঃ দারিদ্রতা কাটিয়ে ধনী হওয়ার তিনটি উপায়!

Leave a Reply