স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু অর্থের পরিমান কম? চিন্তা নেই, আছে উপায়- জেনে নিন বিস্তারিত

0
1117
invest in stock market bengali

অনেকেই স্টক মার্কেটে অর্থ বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু কিছুক্ষেত্রে মানুষের বিনিয়োগ করার জন্য যথেষ্ট পরিমান অর্থ না থাকার দরুন পিছিয়ে আসেন। কিন্তু আসলে কম পরিমানের অর্থ কিন্তু কোনো বাঁধাই নয় স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। আজকের পোস্টে সেই বিষয়েই করা হলো বিস্তারিত আলোচনা।

অনেক বিনিয়োগকারীকেই স্টক মার্কেট বেশ আকর্ষণ করে থাকে। কিন্তু অনেক সময়ে দেখা যায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারী তাঁর অর্থ স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করছেন না কারণ, তাঁর ধারনা কম পরিমানের অর্থ স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা যায় না। আসলে এই ধারনা কিন্তু একেবারেই ভিত্তিহীন। স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য একেবারেই প্রচুর পরিমানের অর্থ প্রয়োজন হয় না। বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে মাত্র ৫০০ টাকার মতো ছোটো বিনিয়োগও করতে পারেন স্টক মার্কেটে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর পরিমানে অর্থ প্রয়োজন এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

জীবনে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন করলেই হলো না। সেই উপার্জিত অর্থ সঠিক ভাবে বিনিয়োগ করাও জানতে হয়। উপার্জিত অর্থ যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায় সেই বিষয়ে সর্বক্ষন চিন্তাভাবনা করতে হয়। এই জন্য অর্থ উপার্জনের সাথে সাথে উপার্জিত অর্থের ছোটো ছোটো অংশ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার মতো অভ্যাস থাকাও জরুরি। অর্থ শুধুমাত্র উপার্জন করে রেখে দিলে সেই অর্থ আর বাড়ে না, একই থেকে যায়। কিন্তু যদি উপার্জিত অর্থকে সঠিক উপায়ে বিনিয়োগ করা যায় তবে সেই অর্থ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীর জন্য সুরক্ষিত অর্থনৈতিক ভবিষ্যত বৃদ্ধি করে।

তবে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য বিশাল পরিমান অর্থ উপার্জন না করলেও চলে। আগেই বলা হয়েছে অতি অল্প পরিমান অর্থের মাধ্যমেও স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হলো কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজা যাক এইবারে।

স্টক মার্কেটে অর্থ বিনিয়োগ করার, বিশেষত স্বল্প অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য অনেক ধরনের উপায় আছে। বিশেষত বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল এবং অ্যাপের অস্তিত্ব এই ব্যাপারটাকে আরও সহজ করে তুলেছে। তবে বিনিয়োগ করার জন্য কোথাও থেকে তো শুরু করতে হবে। তাই সেই প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার জন্য আজকে আমরা সাহায্য করবো আমাদের পাঠক বিনিয়োগকারীদের।

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে কয়েকটি বিষয় সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করা উচিতঃ

  • বিনিয়োগকারীকে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি কীভাবে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান।
  • বিনিয়োগের লক্ষ্য সম্বন্ধে বিনিয়োগকারীর পরিষ্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন।
  • স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য বিনিয়োগকারীকে প্রথমে একটি বিনিয়োগকারী অ্যাকাউণ্ট খুলতে হবে। যেমন- ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট কিংবা ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট।
  • বিনিয়োগকারীকে স্টক বিনিয়োগের একটা বাজেট ঠিক করে নিতে হবে।
  • স্টক মার্কেটের কিছু সাধারন বিষয় সম্বন্ধে অবশ্যই বিনিয়োগকারীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। দরকার হলে বিনিয়োগকারীকে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের আগে স্টক মার্কেট সম্বন্ধে রিসার্চ করে নিতে হবে।
  • এই সমস্ত বিষয় ঠিকঠাক ভাবে চিন্তা-ভাবনা করা হয়ে গেলে এইবারে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা শুরু করে দিতে হবে।

স্বল্প অর্থ স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার পদ্ধতিঃ

যেই সমস্ত বিনিয়োগকারী স্টক মার্কেটে আগে কখনো বিনিয়োগ করেননি এবং যারা স্বল্প পরিমান অর্থ স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু সঠিকভাবে জানেন না যে সেটি আদৌ করা যায় কিনা। তাদের জন্য বিশেষ করে উল্লেখ করে দেওয়া হলো টিপস গুলো।

১। অনেক বেশী সময়সীমায় বিনিয়োগ করা ভালো

আগেও বলেছি স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে নিজের লক্ষ্য সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কখন আপনি আপনার অর্থটিকে হাতে পেতে চান সেই বিষয়ে সঠিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপরে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। যাতে সঠিক সময়ে অর্থ আপনার হাতে আসে সেই জন্যই এই পরিষ্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন। তবে মাথায় রাখতে হবে স্টক মার্কেটে যত বেশী সময়সীমা ধরে বিনিয়োগ করা যাবে অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভ তত বেশী।

২। অবিচলিত থাকা প্রয়োজন

বিনিয়োগ শুরু করার পূর্বে নিয়মিত এই কার্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। এটি শুনতে সহজ মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু খুব একটা সহজ নয়। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো খরচ করা। সেখানে উপার্জিত অর্থ থেকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরিয়ে রাখা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তবে বিনিয়োগকে কার্যকরী করার জন্য বিনিয়োগকারীকে নিয়মিত বিনিয়োগ বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত বিনিয়োগ করলে সেটি শেষমেশ বিনিয়োগকারীর জন্যই বিশেষ লাভজনক হয়, এই ব্যাপারটি বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। যদি বা কোনো কারনে একটি সপ্তাহে বিনিয়োগের অর্থ জমিয়ে রাখতে না পারলে পরের সপ্তাহে সেই খামতি মনে করে মেটানো বিনিয়োগকারীর কর্তব্য। আজকে কষ্ট করে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে তাঁর সম্পূর্ণ লাভ পাওয়া সম্ভব হবে।

৩। বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্বন্ধে অবগত থাকতে হবে

বিনিয়োগ করার আগে বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্বন্ধে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই অবগত থাকতে হবে। বিনিয়োগকারীকে আগে বুঝে নেওয়া উচিত যে তিনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন আসলে, সেই বুঝে বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগ করতে হবে। যেইসমস্ত বিনিয়োগের প্ল্যান বিনিয়োগকারীকে বেশী উদ্বেগ প্রদান করবে বলে মনে হচ্ছে সেই সমস্ত বিনিয়োগের প্ল্যানে অর্থ না ঢোকানোই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

৪। আবেগকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে

স্টক মার্কেটের বিনিয়োগের এই প্রক্রিয়া আপনার আবেগের ওপর বিশাল ভাবে প্রভাব বিস্তার করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন স্টক মার্কেট থেকে অর্থের ওপর অস্বাভাবিক লাভ যেমন আপনাকে অতিরিক্ত খুশি করে তুলতে পারে সেইরকমই স্টকমার্কেটের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে সবকিছু হারালে প্রচন্ড রাগ এবং দুঃখও আপনাকে ঘিরে ধরতে পারে। তাই স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে নিজের আবেগের প্রতি হ্রাস টানা প্রয়োজন।

৫। স্টক মার্কেটের সাধারণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন

এই কথাটা আগেও বলা হয়েছে আবারও বলছি, স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার পূর্বে অবশ্যই স্টক মার্কেট সম্বন্ধে কিছু সাধারণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। স্টক মার্কেটের সমস্ত ঝুঁকি সম্বন্ধে আগে থেকে অবগত হওয়া জরুরি। এতে নিজেকে আগে থেকে তৈরী রাখা যায় এবং ঝুকির দিকগুলো জানা থাকলে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়।

৬। অর্থকে বিভিন্ন জায়গায় ভাগ করে বিনিয়োগ করতে হবে

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে এটি বুঝে নিতে হবে যে কোথায় কি ধরনের সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এছাড়াও স্টক মার্কেটে এক জায়গায় সমস্ত অর্থ বিনিয়োগ না করে, অর্থের পরিমানকে ভাগ করে বিভিন্ন ভাবে বিনিয়োগ করায় থাকে বেশী সুরক্ষা। স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। মাঝে মাঝে স্টক মার্কেটের বিভিন্ন দিকে খুব বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই একজায়গায় সব অর্থ বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন জায়গায় ভাগে ভাগে অর্থ বিনিয়োগ করা থাকলে ঝুকির আশঙ্কা অনেকটা কমে এবং অর্থের সুরক্ষা বৃদ্ধি পায়। তাই যদি স্টক মার্কেটের এক দিকটা পড়েও যায় তাহলে খুব একটা বেশী ক্ষতি হয় না কিংবা সমস্ত অর্থ বিনিয়োগকারীকে একসাথে হারাতে হয় না।

৭। সাধ্যের মধ্যে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন

বিনিয়োগ করার আগে নিজের মনকে সঠিক ভাবে স্থির করা প্রয়োজন। কখনোই তাড়াতাড়ি অল্প সময়ের মধ্যে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করে অনেকটা অর্থ ফেরত পাবো এই ধরনের মানসিকতা থাকা উচিত নয়। বিনিয়োগের প্রক্রিয়া স্বল্প সময়ের প্রক্রিয়া নয়। তাই বিনিয়োগ করার সময় যথেষ্ট ধৈর্য্য থাকা প্রয়োজন।

৮। SIP-এর মাধ্যমে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন

অনেকেই বিনিয়োগের জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডকেই বেঁছে নেন। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হলে বেশ অনেকটা সময়সীমার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। মিউচ্যুয়াল ফান্ড অনেক বেশী সুরক্ষিত। এছাড়াও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে অনেক বেশী সময়সীমা ধরে বিনিয়োগ করলে সেটি আসলেই ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ লাভদায়ক হয়ে থাকে। মিউচুয়াল ফান্ডে মাত্র ৫০০ টাকা থেকেই বিনিয়োগ করা সম্ভব। অতএব স্বল্প পরিমান অর্থ থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধাই হবে না।

আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

আরও পড়ুনঃ গুগল ম্যাপে এখন থেকে থাকবে দশটি ভারতীয় ভাষার সাপোর্ট!

Leave a Reply