জেনে নিন Youtube-এর জন্য কয়েকটি আকর্ষণীয় ভিডিও আইডিয়া!

0
1144
youtube video ideas

Youtube একটি জনপ্রিয় মিডিয়া যার মাধ্যমে অনেকেই প্রায় শূণ্য বিনিয়োগে উপার্জন করতে পারেন যথেষ্ট পরিমান অর্থ। আজকের পোস্টে Youtube-এ পোস্ট করার মতো কয়েকটি ভিডিও আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বর্তমানে অনেকেই Youtube-কে বেঁছে নিচ্ছেন নিজের উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে। তবে Youtube-এ উপার্জন প্রথম দিকেই করা সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সাবস্ক্রাইবার এবং লাইক পেলেই তবে একজন ইউটিউবার উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। একটি Youtube চ্যানেলের লাইক এবং সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা নির্ভর করবে সেই চ্যানেলের ভিডিওর মান এবং ঘন ঘন ভিডিও পোস্টিং-এর ওপর। ভিডিওর মান উন্নত করার জন্য আছে বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতির সুবিধা। যেই বিষয়ে এর আগে আমাদের একটি পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু ভিডিও ঘন ঘন পোস্ট করার জন্য চাই ভালো মানের ভিডিও আইডিয়া। যেইগুলো দর্শক দেখতে আগ্রহী হবেন।আপনার চ্যানেলের থিমের ওপর নির্ভর করে পোস্ট করতে হবে ভিডিও। আপনি কোন বিষয়ের ওপর আপনার ভিডিও পোস্ট করেন তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে ভাবতে হবে আপনার Youtube চ্যানেলের ভিডিও আইডিয়া। আজকের পোস্টে কয়েকটি আকর্ষণীয় Youtube ভিডিওর আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো। এই ভিডিও আইডিয়াগুলোর মাধ্যমে সহজেই সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো সম্ভব হবে।

আজকের পোস্টে যেই Youtube ভিডিও আইডিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করা হল সেইগুলো হলো-

উপরের এই ভিডিও আইডিয়াগুলো যেকোনো ধরনের Youtube চ্যানেলের জন্য বানানো যেতে পারে। এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে করা যাক বিস্তারিত আলোচনা।

১। নিজের পরিচিতির ভিডিও

প্রথম Youtube চ্যানেল খুললে তার প্রথম ভিডিও হতেই পারে আপনার পরিচিতি ভিডিও। সেই ভিডিও আপনি নিজের পরিচয় এবং আপনার চ্যানেল কেমন হতে চলেছে সেই সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত করতে পারেন আপনার প্রথম ভিডিওতে। নিজের প্রথম প্রভাব Youtube-এর দর্শকদের ওপর ফেলার জন্য এটি সবথেকে ভালো পথ।

২। ভ্লগ ভিডিও

বর্তমানে Youtube -এ জণপ্রিয় এই ধরনের ভিডিও। এই ধরনের ভিডিওতে ইউটিউবার তার একটি দিন আকর্ষণীয় ভাবে শ্যুট করে আপলোড করতে পারেন ইউটিউবে। কিংবা একটি দিনের কোনো আকর্ষণীয় কাজ শ্যুট করে আপলোড করতে পারেন Youtube -এ। তবে ভ্লগ সবসময় বেশ মজাদার এবং আকর্ষণীয় হতে হবে তবেই দর্শক আকর্ষিত হবেন।

৩। কমেন্টের উত্তর দেওয়ার ভিডিও

Youtube -এর দর্শক তখনই একটি চ্যানেলকে বেশী পছন্দ করে যখন সেই চ্যানেলের ইউটিউবার তার দর্শকের সাথে যোগাযোগ করেন নিয়মিত। তাই চেষ্টা করুন দর্শকের কমেন্টের উত্তর দেওয়ার ভিডিও মাঝে মাঝেই বানাতে এতে আপনার দর্শকও যেমন খুশি হবে, সেইরকমই আপনার চ্যানেলের কন্টেন্টও বেড়ে যাবে।

৪। চ্যালেঞ্জ ভিডিও

আপনার Youtube চ্যানেল যেই বিষয়েরই হোক চ্যালেঞ্জ ভিডিও অনায়াসেই করা যায় সব বিষয়ের ওপরেই। যদি আপনার চ্যানেল ‘খাবার-দাবার’ নিয়ে হয়ে থাকে তাহলে করতে পারেন ‘ফুড চ্যালেঞ্জ’। যদি আপনার চ্যানেলের বিষয় হয় বই, তাহলে করতে পারেন ‘বই পড়ার চ্যালেঞ্জ’। এইরকমই যেই বিষয়ের ওপরেই আপনার Youtube চ্যানেল হয়ে থাকুক না কেন অনায়াসেই করা যায় এই চ্যালেঞ্জ ভিডিও। Youtube -এ এই চ্যালেঞ্জ ভিডিও লোকে দেখতেও বেশ পছন্দ করে।

৫। নিজের মতামত জানানোর ভিডিও

Youtube চ্যানেল যেই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে সেই বিষয়ের বিভিন্ন দিকের ওপর নিজের মতামত পোষন করে বানাতে পারেন ইউটিউব ভিডিও। উদাহরণস্বরূপ যদি আপনার চ্যানেলের ভিত্তি গেমিং হয় তাহলে বিভিন্ন গেম কিংবা বিভিন্ন গেম ম্যানুফ্যাকচার সম্বন্ধে আপনার কি মতামত তা আপনি আপনার দর্শকদের জানাতে পারেন। দর্শকরা এইধরনের মতামত শুনতে ভালোবাসেন এবং সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে জিনিস কিনে থাকেন।

৬। পছন্দের গান নিয়ে বানানো ভিডিও

আপনার Youtube চ্যানেল যেই বিষয়ের ওপরেই হোক না কেন আপনার সাবস্ক্রাইবার সেই বিষয়ের বাইরে আপনার নিজস্ব সত্তাকে জানতে সবসময় আগ্রহী হবেন। তাই আপনি নিজের চ্যানেলের জন্য বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দের গানের রেকমেন্ডেশন ভিডিও। এতে আপনার কন্টেন্ট যেমন বাড়বে সেইরকমই আপনার সাবস্ক্রাইবারদের সাথে আপনার সম্পর্কও ভালো হবে।

৭। পছন্দের বই নিয়ে বানানো ভিডিও

পছন্দের গানের মতো পছন্দের বই নিয়েও বানিয়ে ফেলতে পারেন ইউটিউব ভিডিও। এখনকার যুগে সবকিছু যখন ডিভাইসে বন্দী তখন আপনি আপনার সাবস্ক্রাইবারদের যদি বইমুখো করতে পারেন তার থেকে ভালো আর কীই বা হতে পারে। এছাড়াও বই নিয়ে বানানো ভিডিও Youtube-এর দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।  

৮। কোনো কিছুর রিভিউ দেওয়ার ভিডিও

আপনার চ্যানেল যেই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরী সেই বিষয়ের প্রোডাক্টের সম্বন্ধে আপনি রিভিউ দিয়ে আপনার সাবস্ক্রাইবারদের সঠিক প্রোডাক্ট কিনতে সাহায্য করতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনার Youtube চ্যানেল যদি হয় রূপচর্চা সম্বন্ধিত তাহলে আপনি বিউটি প্রোডাক্টগুলোর রিভিউ প্রকাশ করতে পারেন।  

৯। What’s on my phone? ভিডিও

Youtube -এর জনপ্রিয় ভিডিওগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এইটি। আগেই বলা হয়েছে সাবস্ক্রাইবাররা ভিডিও মেকারের ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন। আর এখন নিজের মোবাইল ফোনের চেয়ে ব্যক্তিগত আর কীই বা হতে পারে। তাই অনায়াসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই ধরনের ভিডিও।

১০। পছন্দের ওয়েব সিরিজের ভিডিও

কোনো ভিডিও স্ট্রিমিং পোর্টালে অ্যাকাউন্ট নেই এইধরনের লোক খুবই কম আছে ইন্টারনেটে। তবে ভিডিও স্ট্রিমিং পোর্টালে অনেক ওয়েব সিরিজের ভিড়ে কোনটা দেখা ঠিক হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তাই আপনার সাবস্ক্রাইবারের জন্য আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার পছন্দের ওয়েব সিরিজের সাজেশনযুক্ত ভিডিও।

১১। পছন্দের সিনেমার ভিডিও

ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি বানিয়ে ফেলতে পারেন নিজের পছন্দের সিনেমার সাজেশন দেওয়া ভিডিও। এই ধরনের ভিডিও দর্শকরা দেখতে বেশী পছন্দ করে থাকেন।  

১২। কমেডি স্কিট তৈরী করা

Youtube-এর আরেকটি জনপ্রিয় বিষয় হলো কমেডি স্কিট করা। আপনার যদি মজার মজার স্ক্রিপ্ট ভাবার প্রতিভা থেকে থাকে তাহলে অনায়াসেই এই ধরনের ভিডিও আপনি বানিয়ে Youtube-এ জনপ্রিয় হয়ে যেতে পারবেন।

১৩। Haul ভিডিও

যেকোনো বিষয়ের Youtube চ্যানেলেই Haul ভিডিও করা সম্ভব হয়। আপনার চ্যানেল যেই বিষয়ের ওপর তৈরী সেই সম্পর্কিত জিনিস কিনে তার Haul ভিডিও শ্যুট করে ফেলুন। এটি একটি ভীষনই ভালো ভিডিও আইডিয়া।

১৪। নিজের কালেকশনের ভিডিও

আপনি যদি কোনো জিনিস সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে বানিয়ে ফেলুন ইউটিউব ভিডিও। তার সাথে সাথে নিজের কালেকশন সম্বন্ধে কিছু তথ্যও আপনার সাবস্ক্রাইবারদের জানান।  

১৫। অন্য ভিডিওর প্যারোডি বানানো

বর্তমানে Youtube -এ সবথেকে ট্রেন্ডিং ভিডিও হলো প্যারোডি ভিডিও। কোনো জনপ্রিয় গান কিংবা সিনেমার দৃশ্যর প্যারোডি ভিডিও বানিয়ে সহজেই সাবস্ক্রাইবারদের আকৃষ্ট করতে পারেন।

আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

আরও পড়ুনঃ UAE,দুবাইতে চাকরি করার ইচ্ছা কীভাবে হবে পূরণ?এই আটটি ধাপেই পেয়ে যাবেন স্বপ্নপূরণের সন্ধান!

Leave a Reply