এই ৮টি সফল স্টার্টআপ-এর গল্প আপনার মনেও জাগিয়ে তুলবে উৎসাহ এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস!

0
1267
8-successful-startup-story-in-bengali

অনেকেরই জীবনের স্বপ্ন থাকে নিজস্ব স্টার্টআপ শুরু করার। কিন্তু স্বপ্ন থাকলেও ঝুঁকি নেওয়ার ভয়ে অনেকেই পিছিয়ে যান। কিন্তু ঝুঁকিতেই লুকিয়ে থাকে সফলতার বীজ। এই ৮টি স্টার্টআপ-এর গল্প সেই সফলতাকেই তুলে ধরবে আপনার সামনে।

বর্তমানে ভারতবর্ষ স্টার্টআপের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে সবার আগে। প্রায় প্রত্যেকদিনই কেউ না কেউ নিজের স্বপ্নের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন নতুন নতুন স্টার্টআপ খুলে। তবে স্টার্টআপ শুরু করা খুব একটা সহজ নয়। একটি স্টার্টআপের পেছনে থাকে অসম্ভব ঝুঁকি কারণ একাধিক স্টার্টআপ শুরু হলেও সেগুলো সফলতার মুখ দেখে না অনেক ক্ষেত্রেই। ফলতই অনেকেই এই ঝুঁকি নিতে ভয় পান এবং শেষমেশ আর স্টার্টআপ শুরুই করা হয় না।

আজকের পোস্টে তাই কিছু স্টার্টআপের কথা নিয়ে আলোচনা করা হলো যারা শুধু ঝুঁকি নিয়ে শুরুই করেন নি সেই স্টার্টআপকে পরিবর্তিত করে ফেলেছেন বর্তমানে ব্যাপক বিস্তৃতির ব্যবসায়। খাদ্যের ইন্ডাস্ট্রি থেকে ইকমার্স সব ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রিতেই ছড়িয়ে রয়েছে এই ধরনের অসাধারন সমস্ত সাহসী স্টার্টআপের গল্প। এই গল্প থেকেই বোঝা যাবে স্টার্টআপের পেছনে ঝুঁকি অবশ্যই আছে কিন্তু পরিশ্রম, একনিষ্ঠতা, অধ্যাবসায় এবং সাহস থাকলে সফলতা আসা অসম্ভব নয়।

প্রত্যেক এন্ত্রাপ্রণরই নিজের স্টার্টআপ-এ নিজের সবটুকু ঢেলে দেন তাকে সফল করার উদ্দেশ্যে। সমস্ত পরিশ্রম দিয়ে একটু একটু করে গড়ে তোলেন নিজের সাম্রাজ্য। পুরো রাস্তাটা সহজও হয় না। অনেক সময়ে খারাপ সময়ও যায় আর তখনই অনেকের মাথায় ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা আসে। এই চিন্তাকে ধূলিসাত করে এগিয়ে যাওয়াটাই আসল। অনেকেই হার স্বীকার করেন। আর যারা করেন না তারাই হয়ে ওঠেন পরবর্তীকালে নিজের সাম্রাজ্যের সম্রাট, একটি সফল স্টার্টআপের কর্ণধার। আসুন আজ সেইরকমই হার না মানা ৮টি স্টার্টআপ-এর গল্প পড়ে নেওয়া যাক।

৮টি অসাধারন সফল স্টার্টআপ-এর কাহিনীঃ

সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্যা অভিনব এবং অসাধারন স্টার্টআপ-এর কাহিনী। আজ আমরা সেই অগুনতির মধ্যে থেকে মাত্র ৮টি কাহিনী বেঁছে নিলাম আপনাদের জন্য। এইবারে জানা যাক বিস্তারিত এই স্টার্টআপ সম্বন্ধে।

১। Byju’s

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ ই-লার্নিং
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ বাইজু রাভিন্দ্রন, দিব্যা গোকুলনাথা

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া Byju’s শুরুর দিকে একটি সাধারণ ই- লার্নিং অ্যাপ হলেও এটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বর্তমানের সবথেকে বিখ্যাত এড-টেক অ্যাপ। Byju’s নামক এই অ্যাপটি ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো প্রতিযোগীতামূলক পরিক্ষার অনলাইন টিউশন এবং নোটস দিয়ে সাহায্য করে থাকে। বর্তমানে এই অ্যাপের ৩৫ মিলিয়নের ওপর বেশী বিনামূল্যের ব্যবহারকারী আছেন এবং ২.৪ মিলিয়নের বেশী পেইড সাবস্ক্রাইবার।  

২। Oyo

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ আতিথেয়তা (Hospitality)
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ  রিতেশ আগরওয়াল

OYO কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা রিতেশ আগরওয়াল ২০১২ সালে Oravel Stay নাম দিয়ে তার স্টার্টআপ প্রথম শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে এই Oravel Stay-ই হয়ে ওঠে আজকের বিখ্যাত OYO। বর্তমানে হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রির এক অন্যতম নাম হয়ে উঠেছে OYO। US, চীন, ইউরোপ, ভারতবর্ষ নিয়ে আরও ৮০টি দেশ জুড়ে প্রায় ৮০০টির বেশী শহরে ছড়িয়ে আছে OYO-এর বিভিন্ন শাখা। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় এই OYO-এর কর্নধার রিতেশ যখন কিশোর তখন শুরু করেন এই স্টার্টআপ এবং নিজের পরিশ্রমে কিশোর বয়সেই সাফল্যের মূখ দেখেন OYO-এর মালিক রিতেশ কর্ণধার। রিতেশ-এর বক্তব্য অনুযায়ী তার অনুপ্রেরণা ছিল Airbnb।

৩। Flipkart

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ ইকমার্স
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ  শচীন বানসাল এবং বিনি বানসাল

২০০৭ সালে শচীন বানসাল এবং বিনি বানসাল ফ্লিপকার্টকে একটি অনলাইন বুকস্টোর হিসাবে শুরু করেন। শুরু করার প্রথম বছরেই এটি ৮টি সফল শিপমেন্ট করতে সক্ষম হয়। এবং তার কিছু বছর পরই ফ্লিপকার্ট ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করে সাফল্যের সিড়ি বেয়ে। ফ্লিপকার্ট যখন শুরু হয় তখন তার প্রথম কাস্টমার ছিলেন তেলেঙ্গানার এক ইঞ্জিনিয়ার যুবক।

বর্তমানে ফ্লিপকার্ট অনলাইন রিটেল মার্কেটের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সারা ভারত জুড়ে এখন এর ব্যাপ্তি। এছাড়াও সম্প্রতি ফ্লিপকার্ট তার বিস্তৃতি বিনোদন জগতেও ছড়িয়েছে ‘ফ্লিপকার্ট ভিডিও অরিজিনালস’-এর মাধ্যমে।

৪। MakeMyTrip

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ  ট্রাভেল এজেন্সি
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ  আশিষ হেমরজনী, পরিক্ষীত দাস এবং রাজেশ বালপান্ডে

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া MakeMyTrip বর্তমানে বিশ্বের একটি বিখ্যাত অনলাইন ট্রাভেল কোম্পানি। দেশের মধ্যে তো বটেই আন্তর্জাতিক ভাবেও এই অনলাইন ট্রাভেল কোম্পানি যথেষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে MakeMyTrip-এর মাধ্যমে ট্রাভেল প্যাকেজ, হোটেল, ফ্লাইট, রেল এমনকি বাস টিকিট বুক করা গেলেও এই স্টার্টআপ আসলে শুরু করা হয়েছিল ভারতীয় NRIদের প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে। যাতে তাদের বার বার ভারত-আমেরিকায় সফর করতে অসুবিধা না হয় তার জন্যই বিশেষ করে এই স্টার্টআপ শুরু হয়েছিল।

৫। BigBasket

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ ইকমার্স
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ  হরি মেনন, ভি.এস সুধাকর, ভি.এস রমেশ, বিপুল পারেখ, অভিনয় চৌধুরী

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া এই স্টার্টআপ-এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস অর্থাৎ মুদিখানার জিনিস থেকে শুরু করে যাবতীয় খাদ্য দ্রব্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই ছিল এঁদের উদ্দেশ্য। এবং বর্তমানে সেই কাজেই তাঁরা এখন ভারতের প্রথম সারির অ্যাপ। একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে যে স্টার্টআপ এত সফল হওয়ার পরও এই অ্যাপের আসল টিম এখনো সকাল সাতটা রাত বারোটা অবদি কাজ চালিয়ে যায়।

৬। Paytm

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ Fintech
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ  বিজয় শেখর শর্মা

পকেটে মাত্র ১০টাকা নিয়ে ২০১০ সালে বিজয় শেখর শর্মা পা বাড়িয়েছিলেন তার স্বপ্নের উদ্দেশ্যে। ফলাফল ছিল অজানা তবু সাহস ছিল পুরোদমে। সেই সাহস ছিল বলেই আজ Paytm নামক বিশাল সাম্রাজ্যের সম্রাট তিনি। 

Paytm প্রথমে একটি শুধুমাত্র ডিজিটাল ওয়ালেট হিসাবে মার্কেটে এলেও পরবর্তীকালে এটি পরিবর্তীত হয়ে যায় সম্পূর্ণ নতুন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে। বর্তমানে সবধরনের ডিজিটাল অর্থের ট্র্যান্সস্যাকশন সম্ভব এই অ্যাপের মাধ্যমে। সবথেকে মজার বিষয় সম্প্রতি ঘটা নোটবন্দী কিংবা ডিমানিটাইজেশনের পর থেকে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায় এই ডিজিটালও পেমেন্ট অ্যাপের ব্যবহার। নোটবন্দীর আগে যেখানে এই অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১২৫ মিলিয়ন সেই সংখ্যাই বেড়ে গিয়ে হয় ১৮৫ মিলিয়নের কাছাকাছি।

৭। Swiggy

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ Foodtech
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ নন্দন রেড্ডী, রাহুল যামিনী এবং শ্রীহর্ষ মাজেতি

বর্তমানের বিখ্যাত ফুড ডেলিভারি অ্যাপ প্রথমেই এত বিখ্যাত ছিল না। ব্যাঙ্গালোরে উৎপত্তি হওয়া এই ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ব্যাপ্তিও ছিল শুরুর দিকে শুধুমাত্র ব্যাঙ্গালোরের মধ্যেই। শুরুর দিকে Swiggy-র শুধুমাত্র ২৫টি রেস্তোরার সাথে পার্টনারশিপ ছিল। কিন্তু আজ সেই ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সাথে সংযুক্ত হয়েছে ২.১ লাখের ওপর বেশী ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ। এই ফুড ডেলিভারি অ্যাপ বর্তমানে ব্যাঙ্গালোর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা ভারতের ৩০০টির ওপরে শহরে। এই অ্যাপের বিস্তৃতি এখনো ক্রম বর্দ্ধমান।

৮। BookMyShow

  • ইন্ডাস্ট্রিঃ অনলাইন টিকিট বুকিং
  • প্রতিষ্ঠাতাঃ আশিষ হেমরজনী, পরিক্ষীত দাস এবং রাজেশ বালপান্ডে

১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই স্টার্টআপের শুরুতে এর পেছনে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২৫,০০০ টাকা। এত কম বিনিয়োগে শুরু হওয়া স্টার্টআপই বর্তমানে টিকিট বুকিং-এর সবথেকে বড়ো প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনেমার টিকিট বুক করার জন্য বিশেষ করে ব্যবহার করা হয় এই অ্যাপ। বর্তমানে এই অ্যাপের বিস্তৃতি ৫টি দেশ জুড়ে এবং এই অ্যাপের আছে ৩০ মিলিয়নের বেশী কাস্টমার।

আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং like ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

আরও পড়ুনঃ অনলাইন শপিং-এর জন্য 5 টি বেস্ট ক্রেডিট কার্ডের সন্ধান!

Leave a Reply