WhatsApp নিয়ে এসেছে তাদের নতুন প্রাইভেসি পলিসি! জেনে নিন সেই সম্বন্ধিত বিস্তারিত তথ্য

0
807
whatsapp's-new-privacy-policy

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ তাদের প্রাইভেসি পলিসিতে এনেছে বিশেষ বদল। কিন্তু এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপের কোন কোন বিষয় হতে পারে পরিবর্তিত? সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো আজকের পোস্টে।

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ তাদের প্রাইভেসি পলিসিতে এনেছে কিছু পরিবর্তন। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ব্যবহারকারীদের ৮ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় দিয়েছে এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি স্বীকার করে তাদের অ্যাপ আপডেট করার জন্য। তাদের এই নতুন পলিসিতে হোয়াটস অ্যাপ জানিয়েছে কিভাবে তাদের এই নতুন আপডেটেড পলিসি ব্যবহারকারীর চ্যাটে প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও এই নতুন পলিসি অনুযায়ী, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের সাথে ফেসবুকের লিঙ্কের ক্ষেত্রেও আসবে কিছু পরিবর্তন।

তবে হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি সম্বন্ধে ব্যবহারকারীদের মনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি আসলে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে সেই বিষয়েও ব্যবহারকারীরা বিশেষ চিন্তিত। তাই আজকের পোস্টে আমরা নিয়ে এলাম হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।

আজকের পোস্টের আলোচিত বিষয় গুলো হলোঃ

  • প্রাইভেসি পলিসি কী?
  • নতুন প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপ তাঁর ব্যবহারকারীর মেসেজ ফেসবুকে শেয়ার করবে?
  • কোন ডেটা হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকের সাথে শেয়ার করবে?
  • ফেসবুকের সাথে এই তথ্য আদান-প্রদান এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
  • বিনামূল্যের হোয়াটসঅ্যাপ বলে কি কোনো বস্তু হয়?  
  • বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কী হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করবে?
  • হোয়াটসঅ্যাপ কী ব্যবহারকারীর মেসেজ জমিয়ে রাখবে?
  • ব্যবসায়ী প্ল্যাটফর্মের সাথে তথ্য শেয়ারের ব্যাপারে কী লেখা আছে এই পলিসিতে?
  • এই প্রাইভেসি পলিসি কি ব্যবহারকারীকে স্বীকার করতেই হবে?
  • হোয়াটসঅ্যাপ কী সত্যই সুরক্ষিত এবং প্রাইভেট?
  • হোয়াটসঅ্যাপ লুকিয়ে ব্যবহার করার কোনো কি উপায় আছে?
  • হোয়াটসঅ্যাপের সবথেকে ভালো বিকল্প অ্যাপ কী?
Contents hide

প্রাইভেসি পলিসি কী?

প্রাইভেসি পলিসি হলো একটি বিবৃতি বা একটি আইনি নথি, যার মাধ্যমে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তাঁর গ্রাহক বা ক্লায়েন্টের তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, প্রকাশ এবং পরিচালনা করার কিছু অনুমতি অর্জন করে থাকে।

নতুন প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী কি হোয়াটসঅ্যাপ তাঁর ব্যবহারকারীর মেসেজ ফেসবুকে শেয়ার করবে?

নতুন প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ কখনোই ব্যবহারকারীর মেসেজ ফেসবুকে শেয়ার করবে না। এই নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতির কোনোরকমের পরিবর্তন হয় নি। সুতরাং হোয়াটসঅ্যাপের কোনো মেসেজই ফেসবুকে শেয়ার করা হবে না। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্ট করা থাকে তাই কোন তৃতীয় পক্ষ সেগুলো পড়তে পারে না। এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, “এই আপডেট ফেসবুকের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা শেয়ারিং পদ্ধতির কোনো পরিবর্তন করে না এবং ব্যবহারকারীর বন্ধু বা পরিবারের গোপন চ্যাটের উপর কোন প্রভাব ফেলে না এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোন ডেটা হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকের সাথে শেয়ার করবে?

ফেসবুকের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের এই তথ্য আদানপ্রদান আগে থেকেই হয়। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের সাথে তথ্য ভাগাভাগির বিষয়টি চাইলে নাও করতে পারেন, কিন্তু বাকি বিশ্বের ব্যবহারকারীদের জন্য এই অপশন থাকে না। হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক এবং তার অন্যান্য কোম্পানিগুলির সাথে যেই তথ্য গুলো শেয়ার করে সেইগুলো হলো-

  • অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন তথ্য (ফোন নম্বর)
  • লেনদেন ডেটা (হোয়াটসঅ্যাপ এখন ভারতে পেমেন্ট আছে)
  • পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য
  • হোয়াটসঅ্যাপে আপনার ব্যবহার অসম্মানজনক কিনা
  • মোবাইল ডিভাইস তথ্য এবং আইপি ঠিকানা

ফেসবুকের সাথে এই তথ্য আদান-প্রদান এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী ফেসবুকের সাথে উপরে উল্লেখিত কিছু তথ্য ভাগ করে নিতে হবে ব্যবহারকারীদের। কিন্তু কেন এই তথ্য আদান-প্রদান এত গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তরে হোয়াটসঅ্যাপের তরফ থেকে কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্য আদান-প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার উন্নতি ঘটানো। এছাড়াও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা যাতে উন্নত করা যায় সেটিরও ব্যবস্থা করা।

তবে এই নতুন নীতিটি কোম্পানির ফেসবুক গ্রুপে হোয়াটসঅ্যাপের গভীরতর একত্রীকরণের আরেকটি লক্ষণ। ২০১৯ সালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ জুড়ে তার ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ভিশন-এর কথা বলেন। তিনি এটিকে “আন্তঃঅপেরাবিলিটি” বলে অভিহিত করেন। ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জার ইতোমধ্যে ইন্টিগ্রেটেড করা হয়েছে। ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপেও আরো কিছু ফিচারস আনতে ইচ্ছুক। তাঁর জন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে বিশেষ করে।

বিনামূল্যের হোয়াটসঅ্যাপ বলে কি কোনো বস্তু হয়? 

হোয়াটসঅ্যাপ বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে ডাউনলোড এবং ব্যবহার করতে কোনো মূল্যই ব্যবহারকারীকে দিতে হয় না। তবে প্রথমের দিকে হোয়াটসঅ্যাপের মূল্য ছিল প্রতি বছর ৯৯ টাকা। কিন্তু এখন, এটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কী হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করবে?

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীর চ্যাট এনক্রিপটেড থাকে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ কোনোভাবেই ব্যবহারকারীর চ্যাট ব্যবহার করে সেটিকে বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো কাজে লাগাতে পারবে না। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপে কোনো রকমের বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না কিংবা ভবিষ্যতে দেখানোরও কোনোরকমের পরিকল্পনা এখনো পর্যন্ত নেই। তাই আপনি যদি উদ্বিগ্ন হন যে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন আনতে ব্যক্তিগত বার্তা ব্যবহার করা হবে, তাহলে সেই বিষয়ে আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারেন কারণ আপনার বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে এনক্রিপটেড আছে। তবে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের উন্নিতির ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের তরফ থেকে কিছু তথ্য শেয়ার করা হবে, তবে তা কখনোই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেসেজ নয়।  

হোয়াটসঅ্যাপ কী ব্যবহারকারীর মেসেজ জমিয়ে রাখবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে হোয়াটসঅ্যাপের তরফ থেকে ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপ তাদের নিজেদের সার্ভারে ব্যবহারকারীর কোনো মেসেজ জমিয়ে রাখে না। হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি অনুযায়ী, এই অ্যাপে একবার একটি বার্তা সরবরাহ করা হলে, সেটি কোম্পানির সার্ভার থেকে মুছে ফেলা অথবা ডিলিট করে দেওয়া হয়। একটি মেসেজ যখন বিশেষ কোনো কারণবশত সাথে সাথে পাঠানো যায় না তখনই একমাত্র সেই মেসেজ হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভারে ৩০ দিন অবদি সঞ্চিত থাকে। তবে সেই মেসেজ থাকে এনক্রিপটেড আকারে। অর্থাৎ সেই মেসেজ কেউ পড়তে পারবে না।  যদি ৩০ দিন পরেও সেই মেসেজ না পাঠানো যায়, তাহলে বার্তাটি মুছে ফেলা হয়।

ব্যবসায়ী প্ল্যাটফর্মের সাথে তথ্য শেয়ারের ব্যাপারে কী লেখা আছে এই পলিসিতে?

নতুন নীতিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কিভাবে ব্যবসায়ীরা প্ল্যাটফর্মে তাদের ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করবে। হোয়াটসঅ্যাপে একটি ব্যবসার থেকে শেয়ার করা বিষয়বস্তু ঐ ব্যবসার বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে দৃশ্যমান হবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হোয়াটসঅ্যাপে এখন পঞ্চাশ মিলিয়ন ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট আছে। হোয়াটসঅ্যাপের জন্য, এটি একটি সম্ভাব্য মুদ্রাকরণ মডেল।

এই নীতিতে বলা হয়েছে যে কিছু ব্যবসা তাদের গ্রাহকদের সাথে তাদের যোগাযোগ পরিচালনা করতে সাহায্য নেওয়ার জন্য তৃতীয় পক্ষের সেবা প্রদানকারীদের (যা ফেসবুক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে) সাথে কাজ করতে পারে। একটি ব্যবসাট কিভাবে তাদের শেয়ার করা তথ্য পরিচালনা করছে তা বুঝতে হলে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের “ব্যবসায়িক গোপনীয়তা নীতি” পড়ার পরামর্শ দিচ্ছে অথবা ব্যবহারকারী চাইলে সরাসরি উক্ত ব্যবসার সাথে যোগাযোগ করেও ব্যাপারটি পরিষ্কার করে নিতে পারবেন।

এই প্রাইভেসি পলিসি কি ব্যবহারকারীকে স্বীকার করতেই হবে?

হ্যাঁ, হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন প্রাইভেসি পলিসি হোয়াটসঅ্যাপের সমস্ত ব্যবহারকারীদেরই স্বীকার করতে হবে। যদি কোনো ব্যবহারকারীর এই প্রাইভেসি পলিসি মেনে নিতে একান্তই অসুবিধা থেকে থাকে তাহলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অ্যাকাউণ্ট ডিলিট করে হোয়াটসঅ্যাপের কোনো বিকল্প অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

হোয়াটসঅ্যাপ কী সত্যই সুরক্ষিত এবং প্রাইভেট?

হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে গোপনীয় এবং ব্যক্তিগত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে একটি। যেহেতু এটি দ্বিমুখী ব্যক্তিগত যোগাযোগের অনুমতি দেয়, তাই বেশীরভাগ মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে ব্যক্তিগত কথোপকথন শেয়ার করে। সুতরাং, ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত হলেও হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া দরকার। এছাড়াও হ্যাকারদের থেকে সাবধানতা অবশ্যই অবলম্বন করা প্রয়োজন।

হোয়াটসঅ্যাপ লুকিয়ে ব্যবহার করার কোনো কি উপায় আছে?

হোয়াটসঅ্যাপ লুকিয়ে ব্যবহার করার কোনো বিশেষ উপায় নেই। তবে কিছু কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে কারোর স্ট্যাটাস লুকিয়ে নিজের পরিচয় না সামনে এনে দেখা যায় কিংবা ‘ব্লুটিক’ না ফেলে মেসেজ পড়ে নেওয়া যায়, তবে সম্পূর্ণ আড়ালে থেকে ক্রমাগত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

হোয়াটসঅ্যাপের সবথেকে ভালো বিকল্প অ্যাপ কী?

বর্তমানে অনেক ব্যবহারকারীই হোয়াটসঅ্যাপ ত্যাগ করে অন্য অ্যাপে নিজের অ্যাকাউণ্ট খুলছে। সেইরকমই হোয়াটসঅ্যাপের একটি বিকল্প অ্যাপ হলো ‘সিগন্যাল’। ‘সিগন্যাল’ও একটি মেসেজিং অ্যাপ যা বিনামূল্যে ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারেন। এই অ্যাপের মেসেজও ‘এন্ড-টু-এন্ড’ এনক্রিপটেড। তবে এই অ্যাপটি কোনো কর্পোরেশনের অধীনে নেই, এটি একটি সম্পূর্ণ নন-প্রফিট সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

আরও পড়ুনঃ একজন ভারতীয় চাকরিপার্থীর জন্য কানাডায় চাকরি পাওয়া কতটা সহজ?জেনে নিন বিস্তারিত তথ্য!

Leave a Reply