একজন ভারতীয় চাকরিপার্থীর জন্য কানাডায় চাকরি পাওয়া কতটা সহজ?জেনে নিন বিস্তারিত তথ্য!

0
846
jobs in canada

বছরের পর বছর কানাডায় চাকরি পার্থীদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।প্রত্যেক বছরই প্রচুর ভারতীয় মানুষ কানাডায় যায় চাকরি পাওয়ার আশায়।অনেকেরই ধারণা কানাডায় চাকরির যেহেতু সুযোগ অনেক বেশি সেইজন্যই চাকরি পাওয়াও হবে সহজ।সত্যিই কি তাই?আসুন দেখে নেওয়া যাক।

একটি সার্ভের মাধ্যমে দেখা গেছে নিজের বিষয়ে দক্ষ চাকরিপার্থীদের মধ্যে ৫০% চাকরিপার্থী চাকরি র আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ১৬ সপ্তাহের মধ্যে চাকরি পেয়ে গেছেন।অনেক চাকরিপার্থীই বলেছেন মাত্র দশটি জায়গায় চাকরির আবেদন করার মধ্যেই তারা পেয়ে গেছেন তাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির অফার।তবে তারা এটিও বলেছেন তাদের কানাডায় এই চাকরির স্বপ্ন সম্ভব হয়েছে কারণ তারা চাকরি খোঁজার সময় অবলম্বন করেছিলেন একটি ভালো স্ট্র্যাটেজি।

একজন ভারতীয় চাকরিপার্থীর কানাডায় চাকরির আবেদন করার জন্য কী কী প্রয়োজন হয়?

  • একটি ভালো রিজিউমে
  • চাকরির আবেদপত্রের সাথে একটি ভালো কভার লেটার
  • পরিচয়পত্র
  • পাসপোর্ট
  • ভিসা/ওয়ার্ক পারমিট

সহজে কীভাবে কানাডায় চাকরি পাওয়া সম্ভব?

চাকরি খোঁজার সময় যদি একটি ভালো স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করা যায় তবে চাকরির খোঁজার ঝামেলা অর্ধেক হয়ে যায়।কানাডায় সহজে চাকরির পাওয়ার জন্যও কিছু স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করা যেতে পারে।

১।একটি সঠিক এবং সুন্দর সিভি বানানো জরুরি

অনেকের কাছেই রিজিউমে বানানোটা একটি সাধারণ সহজ কাজ লাগে।কিন্তু আসলে একটি সঠিক এবং বিশেষ সিভি বানাতে দরকার পরে বিশেষ দক্ষতার এবং অভিজ্ঞতার।

কানাডায় প্রত্যেকটি কোম্পানি প্রতিনিয়তই হাজার হাজার সিভির মুখোমুখি হচ্ছে।এইজন্যই বেশির ভাগ কোম্পানিই সিভি বাছাইয়ের কাজ ছেড়ে দিয়েছে টেকনোলজির ওপর।‘অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম’ নামক একটি টেকনোলজির মাধ্যমে বর্তমানে সিভি বাছাই হয় বহু কোম্পানিতে।এই সফটওয়্যারটি সিভিকে স্ক্যান করে কোম্পানির প্রয়োজনীয় দক্ষতার কী ওয়ার্ডগুলো খুঁজে বের করে।সেই কী ওয়ার্ডগুলো কোনো সিভিতে না পেলে বাতিল হয়ে যায় সেই সিভি।তাই সিভি বানানোর সময় অবশ্যই কী ওয়ার্ডের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

২।চাকরির আবেদনের সঠিক সোর্স বেছে নিতে হবে

বর্তমানে চাকরির আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে গেছে।এমপ্লয়ারদের নজরে আসার জন্য শুধুমাত্র একটি মাধ্যম থেকে আবেদন করলে হবে না,চাকরির আবেদন করতে হবে একাধিক মাধ্যম থেকে।লিঙ্কডিন এবং আরও অন্যান্য অনলাইন চাকরির পোর্টালগুলো বর্তমানে সেই কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে।

৩।কানাডা পিআর ভিসার জন্য আবেদন করা জরুরি

কানাডা পিআর ভিসা থাকলে কানাডায় চাকরি  পাওয়া হয়ে যায় অনেক সহজ। কোম্পানি সবসময়ই এমন চাকরিপার্থীই চায় যার কানাডায় চাকরি করার অধিকার আছে, যাকে কোম্পানিকে আর্থিক সাহায্য করার প্রয়োজন পরবে না।

এই জন্যেই কানাডায় যদি পড়াশোনা এবং চাকরির করার স্বপ্ন থাকে তবে অবশ্যই কানাডিয়ান পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি ভিসা থাকা জরুরি।

৪।পরিশ্রম করতে হবে 

শুধুমাত্র কানাডার কয়েকটি চাকরির পোর্টালে নিজের প্রোফাইল পোস্ট করে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকলে চলবে না।প্রার্থীকে সমানে বিভিন্ন চাকরির সম্বন্ধিত রিসার্চ জারি রাখতে হবে এবং সুযোগ এলেই চাকরি র জন্য আবেদন করতে হবে।

যদি আপনার নিত্য দিনের কাজের মাধ্যমে রিসার্চ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে তাহলে আপনি একজন জব সার্চ এক্সপার্টের শরণাপন্ন হতে পারেন।

কানাডিয়ান চাকরির বাজার সম্বন্ধে একজন জব সার্চ এক্সপার্টের আপনার থেকে অবশ্যই বেশী অভিজ্ঞতা থাকবে এবং সেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আপনার চাকরি  পাওয়াও সহজ হবে।

কানাডায় প্রচুর কেরিয়ার শুরু করার সুযোগ থাকলেও একটি ভালো স্ট্র্যাটেজি ছাড়া সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।আপনার সেই পরিশ্রম কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আজকে আমরা আলোচনা করলাম কানাডার চাকরির সুযোগ এবং সেই সুযোগ হাতের মুঠোয় পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে।সব আকাঙ্ক্ষাই পূর্ণ হওয়া সম্ভব ভালো স্ট্র্যাটেজি এবং দৃঢ় লক্ষ্যের সাথে।

চাকরি বিষয়ক পরবর্ত্তী পোস্ট এ আমরা আলোচনা করবো কানাডায়  পিআর ভিসার জন্য আবেদন পত্র জমা  এবং তার খুঁটিনাটি বিষয়ে ।

আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।উচ্চশিক্ষা সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

আরও পড়ুনঃ আইটেল কোম্পানি ভারতে নিয়ে এলো নিউ রেঞ্জের অত্যাধুনিক স্মার্টটিভি নাম মাত্র দামে!

Leave a Reply