এডুকেশন লোন কি?জেনে নিন তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য

0
492

প্রত্যেক মানুষের জীবনে উন্নতি এবং সাফল্যের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের শিক্ষার।কিন্তু দিন দিন পড়াশোনার খরচ ক্রমে বেড়েই চলেছে।একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলেও খরচের জন্য অনেকেই সেই সুযোগের সদব্যবহার করতে পারেন না।এই সব কথা মাথায় রেখেই সন্তান জন্মানোর পর থেকেই বাবা-মা সন্তানের শিক্ষার খরচের জন্য বিভিন্ন মিউচাল ফান্ডে, ফিক্সড ডিপোসিটে কিংবা ইউনিট-লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স প্ল্যানে অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তবে এত কিছু করার পরেও শিক্ষা গ্রহনের সময় দেখা যায় সেই অর্থের কমতি পড়েছে।এই সমস্যার সঠিক সমাধান হলো এডুকেশন লোন।

একটি সার্ভেতে দেখা গেছে প্রত্যেক বছর শিক্ষা ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে চলেছে ১৫% করে।এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজের সন্তানকে যথাযথ শিক্ষা দান করতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন এডুকেশন লোনের সাহায্য।

এডুকেশন লোনে কী কী করা যায়?

এডুকেশ্ লোনের মাধ্যমে বেসিক কোর্স-এর বেতন এবং এছাড়াও শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ যেমন কলেজ হোস্টেলের খরচ, পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য ফিস ইত্যাদি সহজে মেটানো যায়।

কারা এই লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে?

এডুকেশন লোন-এর প্রধান ভোক্তা হলো শিক্ষার্থী নিজে।শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা, স্বামী কিংবা স্ত্রী কো-অ্যাপ্লিক্যান্ট হতে পারেন।

কাদের জন্য এই এডুকেশন লোন?

এডুকেশন লোন সেইসব ছাত্রছাত্রীদের জন্য যারা ভারতে থেকে কিংবা ভারতের বাইরে গিয়ে নিজেদের জীবনের উন্নতি ও সাফল্যের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা অর্জন করতে চান।

এডুকেশন লোনে কোন কোন ধরনের কোর্স পড়বে?

ইঞ্জিনিয়ারিং, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচার, মেডিকেল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করতে চাইলে এই লোন তার খরচ বহন করবে।এছাড়াও শিক্ষার্থী যেকোনো ধরনের শিক্ষাগত ফুল টাইম, পার্ট টাইম কিংবা বৃত্তিমূলক কোর্স করতে চাইলেও এই লোন তার খরচ বহন করেও শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহনে সাহায্য করবে।

লোন নেওয়ার যোগ্যতা কী?

এডুকেশন লোন নিতে হলে কয়েকটি বিষয়ে লোনগ্রাহককে যোগ্য হতে হবে।

  • ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
  • ভারত কিংবা বিদেশের একটি বৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করতে হবে।

তবে কোনো কোনো ব্যাঙ্ক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগেই লোন দিয়ে দেয়।

রিসার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গাইডলাইন হিসাবে লোন নেওয়ার বয়সের কোনো উর্দ্ধসীমা নেই।তবে কিছু কিছু ব্যাঙ্কের উর্দ্ধসীমা থাকতে পারে।

এডুকেশন লোনের আবেদন করার জন্য কোন কোন তথ্য প্রয়োজন?

এডুকেশন লোনের জন্য আবেদন করতে হলে ব্যাঙ্কে কিছু কিছু তথ্য জমা দিতে হয়।

  • বৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিশন লেটার
  • বেতনের প্রমানপত্র
  • দশম শ্রেনী, দ্বাদশ শ্রেনী কিংবা স্নাতক হয়ে থাকলে সেই ডিগ্রীর মার্কশিট
  • এছাড়াও কো-অ্যাপ্লিক্যান্ট-এর আয়ের প্রমানপত্র যেমন পেস্লিপ, কিংবা ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদি প্রমানপত্র ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে।

লোন ফাইনান্সিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা

একটি ব্যঙ্ক অর্থের পরিমানের ওপর নির্ভর করে ১০০% অবদি লোনের অর্থায়ন করতে সক্ষম।বর্তমানে চার লাখ অবদি লোনের জন্য কোনো রকম মার্জিন অর্থের প্রয়োজন পড়ে না।ভারতে থেকে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ৫% অবশ্যই আবেদনকারী দ্বারা খরচ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিদেশে পড়তে গেলে সেই মার্জিন অর্থের পরিমান বেড়ে হয়ে যায় ১৫%।

এছাড়াও ৭.৫ লাখ টাকার ওপরে লোন নিলে ব্যাঙ্ক থার্ড পার্টির গ্যারান্টি কিংবা জমানতের দাবি করে।তবে চার লাখ টাকা অবদি ব্যাঙ্ক কোনো রকম থার্ড পার্টির গ্যারান্টি কিংবা জমানতের দাবি করে না।চার লাখ থেকে ৭.৫ লাখ টাকার লোনের জন্য ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র থার্ড পার্টির গ্যারান্টি দাবি করে এবং ৭.৫ লাখ টাকার উর্দ্ধের লোনে ব্যাঙ্ক দাবি করে জমানতের।

লোনের আবেদন ব্যাঙ্ক দ্বারা গৃহীত হওয়ার পর থেকেই জমা দেওয়া ফিস স্ট্রাকচার অনুযায়ী ব্যাঙ্ক তখন আবেদনকারীকে অর্থ প্রদান করতে শুরু করবে।

ইন্টারেস্ট রেট

মার্জিনাল কস্ট অফ ফান্ড বেসড লেন্ডিং রেট এবং অতিরিক্ত কিছু সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক তার লোনের ইন্টারেস্ট রেট নির্ধারণ করে।শেষ সার্ভে অবদি দেখা গেছে এই অতিরিক্ত সংখ্যার পরিমান ১.৩৫-৩%-এর মধ্যে আছে।

পরিশোধ

এডুকেশন লোন তার বাবা মা শিক্ষার্থীর জন্য নিলেও শিক্ষার্থী নিজে পরিশোধ করে এই লোন।যেই কোর্সের জন্য এডুকেশন লোন নেওয়া হয়েছিল সেই কোর্স শেষ হয়ে যাওয়ার পরই লোন পরিশোধের সময় শুরু হয়।কিছু কিছু ব্যাঙ্ক আবার শিক্ষার্থীর কোর্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর লোন পরিশোধের উদ্দেশ্যে চাকরি খোঁজার জন্য ছয় মাস অবদি সময়ও দেয়।

এডুকেশন লোন পরিশোধের সময় দেওয়া হয় পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে।তবে কিছু কিছু ব্যাঙ্ক এর থেকেও বেশী সময় দিতে রাজি থাকে।

লোন নেওয়ার সময় কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?

লোন নেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অনেকগুলো বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।লোন নেওয়ার সময়ে তার সাথে সম্পর্কিত প্রসেসিং, ব্যাঙ্ক চার্জ, লেট পেমেন্ট ইত্যাদি বিষয় ভালো ভাবে খুঁটিয়ে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

আয়কর আইনে এডুকেশন লোনের ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

আয়কর আইন অনুয়ায়ী লোন পরিশোধের সময় লোনের ইন্টারেস্টে কিছু অর্থ কমানোর সুযোগ থাকে।তবে এই সুযোগ তখনই বলবৎ হয় যখন আবেদনকারী কিংবা আবেদনকারীর কোনো আইনত অভিভাবক এই লোন পরিশোধের জন্য অর্থ ব্যয় করে।

এই আইন অনুযায়ী আয়কর অর্থের পুরো পরিমানটা ব্যাঙ্কের লোনের ইন্টারেস্ট থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।এই বাদ দেওয়ার আইনটি বলবত থাকবে লোন পরিশোধের আট বছরের মধ্যে।মূল লোনের অর্থের পরিমানে যদিও কোনো বাদ দেওয়া সম্ভবপর হবে না।

শেষ কিছু কথা

এডুকেশন লোন যেহেতু একজন মানুষের জীবনের প্রথম লোন তাই ভবিষ্যতে এই লোন উক্ত মানুষের ভালো ক্রেডিট স্কোর তৈরী করতে সাহায্য করে।যদি সময় মতো কোনো রকম অসুবিধা ছাড়া এই লোন লোনগ্রহণকারী মিটিয়ে দিতে পারে তবে তার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে হাউসলোন, কারলোন ইত্যাদি বড়ো বড়ো লোন নেওয়া খূবই সহজে সম্ভব হয়।

আপনার কি মনে হয় এই বিষয়ে?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

Leave a Reply