Whatsapp নাকি Telegram ইন্টারনেট দুনিয়ার ‘চ্যাট-বাদশা’ আসলে কে?জেনে নিন বিস্তারিত!

0
1939
whatsapp-vs-telegram

Whatsapp এবং Telegram এই দুটি চ্যাট-অ্যাপই বর্তমানে বহুলভাবে জনপ্রিয়। তবে এই দুটি অ্যাপের মধ্যে কোন অ্যাপটি ব্যবহারের দিক দিয়ে সবচেয়ে ভালো? ভেবে দেখেছেন কি? তাহলে আজকে সেই বিষয় নিয়েই করা যাক বিস্তারিত আলোচনা।

এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বর্তমানে Whatsapp চ্যাট-অ্যাপটিকে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা বেশী ব্যবহার করেন Telegram অ্যাপের থেকে। ব্যবহারকারীর ভরসার দিক দিয়েও হয়তো Whatsapp-ই এগিয়ে আছে প্রতিযোগীতায়। তবে ফিচারের দিক থেকে দেখতে হলে এই প্রতিযোগীতায় Whatsapp-এর যোগ্য প্রতিযোগী হলো Telegram। তবে সুরক্ষার দিক থেকেও কি Whatsapp-এর থেকে Telegram অ্যাপ ভালো? নাকি Telegram-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে কোনো বিপদের আশঙ্কা? এই ধরনের অনেক প্রশ্নই ব্যবহারকারীদের মনে ঘুরপাক খায়। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই হলো আজকের পোস্টে।

পোস্টে আছেঃ অ্যাপ-দ্বয়ের ইতিহাস

Contents hide

Telegram অ্যাপের ফিচারঃ

  • চ্যানেলের সুবিধাঃ
  • BOT-এর সুবিধাঃ
  • অপরিসীম সার্ভার স্টোরেজ
  • সিক্রেট চ্যাটের সুবিধাঃ
  • মাল্টিপল সেশনঃ
  • গ্রুপ মেম্বারের সংখ্যাসীমাঃ
  • ভয়েস কলঃ
  • মিডিয়া কম্প্রেশনঃ
  • যেকোনো ধরনের ফাইল পাঠানো যায়
  • User Name-এর সুবিধা
  • মাল্টি প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টঃ

Whatsapp অ্যাপের ফিচারঃ

  • ভয়েস এবং ভিডিও কল
  • এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন সব চ্যাটে
  • ডেলিভারি এবং রিড নোটিফিকেশনঃ

অ্যাপ-দ্বয়ের মধ্যে তাহলে কে ইন্টারনেট দুনিয়ার ‘চ্যাট-বাদশা’?

অ্যাপ-দ্বয়ের ইতিহাস

বর্তমানের জনপ্রিয় চ্যাট-অ্যাপ Whatsapp-এর জন্ম হয় ২০০৯ সালে। বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন Yahoo!-এর দুইজন কর্মচারী ব্রায়ন অ্যাক্টন এবং জ্যান কোউম মিলে Whatsapp-এর জন্ম দেয়। প্রথম দিকে ব্রায়ন এবং কোউম-এর Whatsapp-কে Facebook নাকচ করলেও পরবর্তীকালে অর্থাৎ ২০১৪ সালে Facebook ১৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে Whatsapp-কে কিনে নেয়। বর্তমানে Whatsapp অ্যাপটি Facebook-এর আয়ত্তাধীন অ্যাপ।

Whatsapp-এর উৎপত্তির কিছু বছর পরে অর্থাৎ ২০১৩ সালে নিকোলাই এবং পাভেল ডুরোভ নামের দুইভাই জন্ম দেয় Telegram চ্যাট-অ্যাপটির। এই ভাতৃদ্বয় Telegram-এর আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিখ্যাত রাশিয়ান সোশ্যাল নেটওয়ার্ক VK। তবে Mail.ru Group-এর আয়ত্তে এটি চলে যাওয়ায় তাদেরও কোম্পানি ছেড়ে চলে যেতে হয়।

বর্তমানে Whatsapp এবং Telegram এই দুই অ্যাপই বিশালভাবে জনপ্রিয়। তবে কোন অ্যাপ সবথেকে ভালো জানতে হলে এই অ্যাপগুলোর ফিচার সম্বন্ধে জানতে হবে বিস্তারিত। অতএব এইবারে আলোচনা করা যাক এই দুই অ্যাপের ফিচার সম্বন্ধে বিস্তারিত ভাবে।

Telegram অ্যাপের ফিচারঃ

১। চ্যানেলের সুবিধাঃ

Whatsapp-এর গ্রুপের সাথে খানিকটা মিল আছে Telegram অ্যাপের চ্যানেলের। কিন্তু এই চ্যানেলের কাজ সাধারন গ্রুপের থেকে অনেক বেশী ও কিছুটা অন্যরকমের। গ্রুপে যেমন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য থাকতে পারে কিন্তু Telegram অ্যাপের চ্যানেলে অসীম পরিমান লোকজন থাকতে পারে। তবে চ্যানেলের যিনি ক্রিয়েটর তিনি এখানে স্থির করেন কোন মেম্বার চ্যানেলে পোস্ট করতে পারবেন এবং কোন মেম্বার করবেন না। যদিও বাকি মেম্বাররা সেই পোস্ট দেখতে পাবেন।

২। BOT-এর সুবিধাঃ

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং প্রোগ্রামের একদম অ্যাডভান্স লেভেলের একটি প্রোগ্রাম হলো BOT। এটি অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে সক্ষম। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ইমেজ BOT-কে যদি কোনো নাম দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে তার ওপর ভিত্তি করে ছবি যোগার করে এনে দিতে পারে। অনেকধরনের BOT আছে Telegram অ্যাপে। তবে তার মধ্যে জনপ্রিয় হলো ইমেজ BOT, স্টিকার BOT এবং gif BOT।

৩। অপরিসীম সার্ভার স্টোরেজ

Telegram-এ আছে অপরিসীম সার্ভার স্টোরেজের সুবিধা। এইখানকার সমস্ত ইমেজ, মিডিয়া ফাইল, টেক্সট মেসেজ এবং ডকুমেন্ট সমস্ত ক্লাউড স্টোরেজে সেভ হয়ে থাকে। ফলে Telegram অ্যাপে কোনোরকমের ব্যাকআপ কিংবা ডেটা রিস্টোর করার ঝামেলা পোয়াতে হয়। একাধিক বার এই অ্যাপ থেকে লগ আউট করলেও ব্যবহারকারীর সমস্ত তথ্য এখানে গচ্ছিত থাকে।

৪। সিক্রেট চ্যাটের সুবিধাঃ

Telegram অ্যাপের সবথেকে আকর্ষণীয় ফিচার হলো এই সিক্রেট চ্যাট ফিচার। এই চ্যাট হলো ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড’। এছাড়াও এতে আছে সেলফ ডেস্ট্রাক্ট টাইমার। এই টাইমার-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী একটি সময় নির্ধারন করে দিলে সেই সময়ের মধ্যে এই ফিচার উক্ত মেসেজকে নষ্ট করে দেবে। এই চ্যাট ফিচার কোনো ভাবেই হ্যাক করা সম্ভব নয়।

৫। মাল্টিপল সেশনঃ

একই ব্যবহারকারী Telegram অ্যাপটি একই সাথে একাধিক ডিভাইসে সফলভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি ব্রাউজারেও এই অ্যাপ একই সাথে খুলে রাখা সম্ভব। মেসেজ আসলেও সবকটি ডিভাইসের অ্যাপেই সেটিকে দেখা যাবে।

৬। গ্রুপ মেম্বারের সংখ্যাসীমাঃ

Telegram অ্যাপে চ্যানেল ছাড়াও সাধারন গ্রুপও তৈরী করা সম্ভব। Telegram-এ একটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা হতে পারে ২০০ জন। তবে Telegram-এর গ্রুপে ২০০ জন হয়ে গেলেই সেই গ্রুপ আপনা আপনাই আপগ্রেড হয়ে যাবে ‘সুপার-গ্রুপ’-এ এবং তার সদস্য সংখ্যাসীমা বেড়ে হয়ে যাবে ৫০০০। এছাড়াও এই সুপার গ্রুপে সাধারন গ্রুপের থেকে কিছু ফিচার বেশী পাওয়া যাবে।

৭। ভয়েস কলঃ

Telegram-এ অন্যান্য সাধারন চ্যাট-অ্যাপের মতোই ভয়েস কলেরও সুবিধা পাওয়া যায়।

৮। মিডিয়া কম্প্রেশনঃ

Telegram অ্যাপের ব্যবহারকারীরা যদি চান এই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি কিংবা ভিডিওকে কম্প্রেসন করেও পাঠাতে পারেন।

৯। যেকোনো ধরনের ফাইল পাঠানো যায়

Telegram অ্যাপের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং উপকারী ফিচার হলো এই অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ফাইল পাঠানো যায়। এই ফিচার ব্যবহারকারীদের সবথেকে প্রিয় ফিচার এই অ্যাপের।

১০। User Name-এর সুবিধা

Telegram অ্যাপে কারোর নাম্বার ছাড়াই যেকোনো লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায়। অর্থাৎ Telegram -এ কারোর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ফোন নাম্বার থাকা আবশ্যিক নয়। User Name দিয়ে সার্চ করলেই বেরিয়ে যায় কাঙ্খিত ব্যক্তির চ্যাট বক্স। এর ফলে নিজেদের কন্ট্যাক্ট নাম্বারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

১১। মাল্টি প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টঃ

Telegram অ্যাপটি সবধরনের প্ল্যাটফর্মেই বিনা বাধায় ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে থাকে। Telegram অ্যাপটি Android, ios, windows phone, windows pc, Mac os এবং যেকোনো ব্রাউজারের মাধ্যমেই ব্যবহার করা যায়।

এই হলো Telegram অ্যাপের সমস্ত ফিচার। এইবারে দেখে নেওয়া যাক আমাদের সবার প্রিয় Whatsapp অ্যাপের ফিচারগুলো বিস্তারিত ভাবে।

Whatsapp অ্যাপের ফিচারঃ

১। ভয়েস এবং ভিডিও কল

যেইখানে Telegram-এ শুধুমাত্র পাওয়া যায় ভয়েস কলের সুবিধা সেই জায়গায় Whatsapp-এ পাওয়া যায় ভয়েস এবং ভিডিও দুইরকমেরই কলের সুবিধা। যদি ব্যবহারকারীর মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশনের মান হয় শক্তিশালী তখন এই ভয়েস এবং ভিডিও কলের মানও হয়ে যায় অনেক উন্নত। শুধু তাই নয় Whatsapp-এ কল করার জন্য ডেটা খরচও হয় খুবই স্বল্প। Whatsapp ব্যবহারকারীদের কাছে এটি একটি প্রিয় ফিচার।

২। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন সব চ্যাটে

Whatsapp-এর সমস্ত চ্যাটেই পাওয়া যায় এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের সুযোগ। অতএব এই অ্যাপের চ্যাট হ্যাক করা খুব সহজ নয়। Telegram এই সুবিধা শুধুমাত্র তাদের ‘সিক্রেট চ্যাট’-এর ক্ষেত্রেই দিয়ে থাকে।

৩। ডেলিভারি এবং রিড নোটিফিকেশনঃ

কোনো মেসেজ কখন ডেলিভার হলো এবং সেই মেসেজ যাকে পাঠানো হয়েছে সে পড়েছে কিনা সবকিছুর জানান দেয় Whatsapp। এছাড়াও Whatsapp-এ পোস্ট করা যায় স্টেটাস এবং সেই স্টেটাস কতজন দেখেছে সেই ভিউসও যেমন দেখা যায় সেইরকমই দর্শকদের নামও দেখা যায় সহজভাবে। Whatsapp-এর এটি একটি অসাধারন ফিচার।

অ্যাপ-দ্বয়ের মধ্যে তাহলে কে ইন্টারনেট দুনিয়ার ‘চ্যাট-বাদশা’?

দুটো চ্যাট-অ্যাপকেই বিচার করলে দেখা যায় দুটির মধ্যেই কিছু না কিছু খামতি এবং বিশেষত্ব দুটোই বর্তমান। Whatsapp-এর যেমন আছে ভিডিও কলের সুবিধা, সমস্ত চ্যাটে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের সুবিধা এবং আছে একবিশাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এই সুবিধাগুলো আবার নেই Telegram-এ। তবে Telegram আবার ক্লাউড স্টোরেজের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে Whatsapp-এর থেকে। কারণ Whatsapp-এর ক্ষেত্রে স্টোরেজের সীমা থাকলে Telegram-এ রয়েছে অপরিসীম স্টোরেজ।

এছাড়াও Telegram অ্যাপটিতে রয়েছে আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা। যেমন Telegram-এ রয়েছে অনেকধরনের বট, সবধরনের ফাইল শেয়ারিং-এর সুবিধা, প্রাইভেসির ক্ষেত্রেও টেলিগ্রাম বেশ উন্নত। তবে ভিডিও কলের ক্ষেত্রে এই অ্যাপ পিছিয়ে রয়েছে এখনো Whatsapp-এর থেকে। অতএব দেখা যাচ্ছে খামতি এবং অনন্যতা দুইয়ের মিশেলে তৈরী এই দুটি অ্যাপ। এবার আপনার ক্ষেত্রে কোনটি হবে ভালো সেটি হবে আপনার বিচার। আপনার কি মনে হয়?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং like ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

আরও পড়ুনঃ দারিদ্রতা কাটিয়ে ধনী হওয়ার তিনটি উপায়!

Leave a Reply