আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে পাঁচটি ভুল ধারনা যা সত্ত্বর বন্ধ হওয়া উচিত!

0
614

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বাংলায় যেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামে পরিচিত সেটিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতুহল অপিরিসীম।টেকনোলজি জগতের একটি বড়ো সড়ো আবিষ্কার হলো এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।বিজ্ঞান জগতের আর যে কোনোরকম টেকনোলজি নিয়ে এতটা উৎসাহ মানুষের মধ্যে দেখা যায় নি যা এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে নিয়ে দেখা গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে এই উন্নতমানের টেকনোলজি ভবিষ্যতে মানুষের জীবনধারাকে আমূল বদলে দিতে সাহায্য করবে।

তবে কিছু নতুন জিনিস সৃষ্টি হলে মানুষের মধ্যে ভয় এবং উত্তেজনা দুটোই কাজ করে।এই ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই।আর মানুষের এই অতিরিক্ত আবেগ থেকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে কিছু ভুল ধারনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।আজকের পোস্টে সেইরকমই ছড়িয়ে পড়া পাঁচটি ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হলো যার সাথে সত্যতার কিছুমাত্র সম্বন্ধ নেই।

প্রথম ভুল ধারনা

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমস্ত চাকরির জায়গা নিয়ে নেবে”।

এই ধারনাটি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তহীন।এই কথাটা সত্যি যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনেক জটিল কাজকে অনেক সহজ করে দিতে সক্ষম হবে।কিন্তু তাই বলে একটি টেকনোলজি পুরো মানবজাতির চাকরিক্ষেত্রকে গ্রাস করবে এই ধারনা একেবারেই ভুল।

এর আগেও মানুষের কাজকে সহজ করার জন্য এসেছে কিছু উন্নতমানের টেকনোলজি কিন্তু সেই গুলো কখনোই মানুষের কাজের জায়গা দখল করে নেয় নি।এই ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যাপার।

দ্বিতীয় ভুল ধারনা  

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুধু মাত্র নিম্ন দক্ষতার কাজই করতে পারবে”।

এই ধারনা একেবারেই সত্য নয়।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো একটি অতি উন্নতমানের টেকনোলজি।ইতিমধ্যেই অনেক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদারী জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তারা সেই সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে খুবই দক্ষতার সাথে নিজের কাজ সম্পন্ন করছে।অতএব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র কম দক্ষতা সম্পন্ন কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য এই ধারনা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন।

বর্তমানে বিদেশের বহু চিকিতসাক্ষেত্রে এবং ‘ল ফার্মে’ কর্মী হিসেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা তাদের কাজ সম্পূর্ন দক্ষতার সাথে পালন করে যাচ্ছে।

তৃতীয় ভুল ধারনা

“সুপার ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটার মানুষের থেকে অনেকগুন ভালো মানের কাজ করতে সক্ষম”।

একেবারেই তা নয়।মানুষের ক্ষেত্রে একজন মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসাথে সমান দক্ষ হতে পারে এবং চাইলে নতুন জিনিস অনেক তাড়াতাড়ি শিখেও নিতে পারে।এই ক্ষেত্রে কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অক্ষম।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয়।একটি হল স্পেশালাইজড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অন্যটি হলো জেনারেলাইজড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

স্পেশালাইজড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র একটি কাজেই বিশেষ দক্ষ হতে পারে।একের থেকে বেশী কাজে এদের দক্ষতা থাকে না।

জেনারেলাইজড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একাধিক কাজ করতে সক্ষম হলেও অ্যাডভান্সড লেবেলে গিয়ে এরা কাজ করতে অক্ষম।তাই সাধারনত পেশাদারী ক্ষেত্রে মানুষজন স্পেশালাইজড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকেই বেশী পছন্দ করেন।

চতুর্থ ভুল ধারনা

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাবে”।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে গেছে এই কথাটা শক্তি।কিন্তু সবসময় মাথায় রাখতে হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কিন্তু মানুষের মতো উদ্ভাবনী শক্তি নেই কিংবা নিজে কিছু ভাবার ক্ষমতা নেই।তাকে মানুষ যেভাবে বানাবে সে সেইভাবেই কাজ করতে সক্ষম।তাই মানুষের চেয়ে দ্রুত এরা কাজ করলে কিংবা মানুষের থেকে দ্রুত জটিল অঙ্ক সমাধান করার ক্ষমতা থাকলেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোনোদিনই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।

পঞ্চম ভুল ধারনা

“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের দাসত্বের সমস্যাকে রোবটের মাধ্যেমে সমাধান করতে সক্ষম হবে”।

মানুষের মধ্যে এই ধারনাটি সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সাইফাই ফিল্ম থেকে।তবে আসল ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অনেক ক্ষেত্রে আলাদা।বর্তমানে রোবটের মাধ্যমে ঘরের কাজ করানোটা ভাবনাতীত। যদিও সুদূর ভবিষ্যতে এটি হওয়ার আশা রয়েছে।ধীরে ধীরে দিন বদলের সাথে সাথে টেকনোলজি হয়ে উঠছে উন্নত।অনেক ধরনের কাজই বর্তমানে টেকনোলজির মাধ্যমে করা হচ্ছে যা আগে করার কথা ভাবাও যেত না।সুতরাং সুদূর ভবিষ্যতে যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ঘরের কাজে সাহায্য করবে না সেই কথা এখনো বলা যাচ্ছে না।তবে বর্তমানে সেটি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দিক থেকে বাঁধা আছে।

এইধরনের কিছু ভুল ধারনাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে মানুষের মধ্যে প্রচলিত।যা অনেক ক্ষেত্রেই ভিত্তিহীন।তাই আমাদের অনুরোধ বিজ্ঞানের এই অসাধারণ আবিষ্কার সম্বন্ধে আসল তথ্য জানুন কিন্তু ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মনে দোলাচলের সৃষ্টি না করাই ভালো।

আপনার কি মনে হয় এই বিষয়ে?আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের জানান কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে এবং লাইক ও শেয়ার করে পোস্টটিকে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।টেকনোলজি সম্বন্ধিত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন টুকিটেকের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। 

Leave a Reply